

প্রচলিত ধর্ম বিশ্বাস, এজমা কিয়াস, মানব রচিত গ্রন্থ তথা হাদিস ভিত্তিক। কিন্তু এইগুলি দ্বীনের কোন দলিল নহে। দ্বীনের দলিল একমাত্র কোরআন (জাছিয়া-২০) (রাদ-৩৭) পবিত্র কোরআনই সত্য মিথ্যার পার্থক্যকারী (২ঃ১৮৫)। দ্বীনের সকল বিষয় মিমাংশাকারী এই কোরআন (তারিক-১৩)। আর দ্বীনের বিষয়ে এই কোরআন পরিপূর্ণ (৫ঃ৩)। এই কোরআনের বুঝ যারা অপছন্দ করে তাদের কর্মফল বিনষ্ট হবে (৪৭ঃ৯)। কোরআন প্রত্যাখ্যানকারী ফাসিক (২ঃ৯৯)। সত্য ও ন্যায়ের দিক থেকে এই কোরআনের কথা পরিপূর্ণ (৬ঃ১১৫)। আর যারা কোরআন মোতাবেক না চলে অধিকাংশ লোকের কথা মত চলে তারা আল্লাহর পথ হইতে বিচ্যুত হবে (৬ঃ১১৬)। আর তাই নবী (সঃ) কোরআনের বাইরে কোন কিছু অনুসরণ করে নাই (৬ঃ৫০)। অর্থাৎ তিনি ও এই কোরআনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। তিনি গায়েব বিষয়ে অবগত ছিলেন না (৬ঃ৫০) (৭ঃ১৮৮)। তিনি এই কোরআন ব্যতিত কাউকে দ্বীনের বিষয়ে সতর্ক করে নাই (আম্বিয়া-৪৫)। আর দ্বীনের বিষয়ে তিনি ওহী ব্যতিত কোন কথা বলেন নাই (৫৩ঃ৩) তিনি আল্লাহর নামে কোন কিছু বানাইয়া বলে নাই (৬৯ঃ৪৪)। যদি তিনি আল্লাহর নামে কোন কিছু বানাইয়া বলিত তাহলে আল্লাহ তার দক্ষিণ হস্ত ধরিয়া ফেলিত (৬৯ঃ৪৫) এবং তার জীবন ধমনী কাটিয়া দিতেন (৬৯ঃ৪৬)। আর নবী (সঃ) কে আল্লাহ বলেন ‘তুমি ওহীকে অবলম্বন কর’ (৪৩ঃ৪৩)। আর তিনি তো প্রভুর স্পষ্ট প্রমানের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল (৬ঃ৫৭)। আর নবী (সঃ) এর জন্য আল্লাহ বিধান স্বরূপ এই কোরআনই দিয়েছেন (২৮ঃ৮৫)। তাই তিনি কোরআন বাদে দ্বীনের বিষয়ে কোন বিধান দেয় নাই এটা নিশ্চিত। আর যারা কোরআন মোতাবেক দ্বীনের বিষয়ে বিধান দেয় না, এরা যালিম, ফাসিক, কাফির (৫ঃ৪৪) (৫ঃ৪৫) (৫ঃ৪৭)। আর কোরআন প্রত্যাখানকারীর জন্য কঠিন শাস্তি (সাফফাত-১৭০)। আবার যারা এই কোরআনের কোন আয়াত গোপন রাখে তাদের প্রতি আল্লাহ লানত করেন (২ঃ১৫৯)। আর যারা কোরআনের আয়াতকে বিভিন্ন ভাবে ব্যর্থ করার চেষ্টা করে তাদের জন্য কঠিন শাস্তি জাহান্নাম (২২ঃ৫১)। আর যারা কোরআন বাদেও অন্য কিছুকে দ্বীনের দলিল হিসাবে মনে করে, তারা আল্লাহর সাক্ষাতের আশা পোষণকারী নহে (১০ঃ১৫)। আবার যারা নিজ হাতে কিতাব রচনা করে আল্লাহর নামে চালিয়ে দেয় এবং অল্প মূল্যে বাজারে বিক্রয় করে তাদের জন্য কঠিন দূর্ভোগ (২ঃ৭৯)। আবার আল্লাহর আয়াত বিকৃতকারীর জন্য জাহান্নাম (৪১ঃ৪০) (২ঃ৭৫)। একটি বিষয়ে বিভিন্নভাবে এই কোরআনে বর্ণনা করা হয়েছে। যাতে করে মানুষ এই কোরআন সহজেই বুঝতে পারে (৬ঃ৬৫)। মানব রচিত গ্রন্থভিত্তিক দ্বীনের বুঝ পরিহার করে বিষয়ভিত্তিক কোরানের মাধ্যমে দ্বীনের সঠিক বুঝ সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে কোরআন থেকে বিষয়ভিত্তিক আলোচনার দ্বিতীয় খ- পুস্তকটি সর্বসাধারণের জন্য উপস্থাপন করিলাম। পুস্তকের শাব্দিক ত্রুটি মার্জনীয়।
লেখক
মোঃ হাসিবুল হক চিশ্তী
এম.এ (আরবী), জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়,
এল.এল.বি (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়),
বি.এস.সি (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়),
বি.এস.সি (সার্টিফিকেট কোর্স ভূগোল) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।
পিতার নাম : মৃত সোনাউল্লা মন্ডল, মাতার নাম : মৃত রাবেয়া খাতুন, সাং : কেদার নগর, পোঃ ও ইউনিয়ান : বেলগাছি, উপজেলা : আলমডাঙ্গা, জেলা : চুয়াডাঙ্গা, জন্ত তারিখ : ০৭ এপ্রিল, ১৯৬২ ইং।
১. কর্মে বিশেষ ক্ষতিগ্রস্থ কারা?
২. জন্মের আগে ও মৃত্যুর পরে
৩. ক্বাবা, কুরবানী, হজ্ব সম্পর্কে
৪. মোমিন হওয়ার শর্ত হচ্ছে আদমকাবায় আল্লাহকে সেজদা করা
৫. চুল, গোফ এবং দাড়ী কর্তন করার কথা কোরআনে উল্লেখ নাই কিংবা এইগুলি রাখা হারাম বা রাখা নিষেধ এমন আয়াত কুরআনে নাই
৬. লম্বা লেবাস, টুপি ও পাগড়ী ইসলামী পোষাক এই মর্মে কোন আয়াত পবিত্র কোরআনে নেই
৭. দিনে ৫ বার মসজিদে সালাতের সময় আযান দিতে হবে এই মর্মে কোন আয়াত পবিত্র কোরআনে নেই
৮. জামাতের সাথে সালাত আদায় করার কথা পবিত্র কোরআনে উল্লেখ নেই
৯. ঈদুল ফিতর এর সালাত কায়েম করা, ঈদুল আযহা’র সালাত কায়েম করা, এবং তারাবিহ’র সালাত কায়েম করা, এবং সবে বরাতের সালাত কায়েম করা এই কথাগুলি পবিত্র কোরআনে উল্লেখ নেই
১০. দ্বীন প্রচার করতে গিয়ে বিনিময় নেওয়ার কথা এবং মসজিদে ঈমামতি করে বিনিময় নেওয়ার কথা পবিত্র কোরআনে উল্লেখ নেই
১১. মমিনদের ক্ষতি সাধন উদ্দেশ্যে রসূলের বিনা অনুমতিতে তৈরী মসজিদে সালাতের জন্য দাঁড়াও না
১২. নবী (সঃ) এর বিদায় হজ্বের ভাষণ সম্পর্কে কোরআন মাফিক ফয়সালা
১৩. প্রভুর ইবাদত কী?
১৪. অমরত্ব লাভের উপায় কী?
১৫. হাওয়া (আ.) আদম (আঃ)কে সেজদা দিয়েছে
১৬. আদম ও হাওয়া (আ.) একই সময়ে একই ফরমা বা ছাঁচে তৈরী
১৭. যারা রসূল থেকে আল্লাহকে ফারাক করে বা ঝবঢ়ধৎধঃব করে মূলত উহারাও আল্লাহ ও রসূল অস্বীকারকারী কাফের
১৮. অজ্ঞাত শেরেক কি? এবং অজ্ঞাত শেরেক থেকে মুক্তির উপায় কী?
১৯. ইবলিশ জয়গুরু না বলার কারণ ও যারা জয়গুরু না বলে তারা ইবলিশের অনুসারী
২০. মরিয়মের সাথে আল্লাহর রুহু পূর্ণ মানব আকৃতির ছদ্মবেশ ধারণ করে কথা বলেছেন
২১. আল্লাহর দর্শনে যারা বিশ্বাসী নয় তারা নবী (সঃ)-এর অনুসারী নহে
২২. সূরা আম্বিয়ার ২৫নং আয়াতটিকে প্রত্যেক নবীর উপরে একটি কমন ওহি নাযিলের আয়াত হিসাবে অর্থ না করার যুক্তি
২৩. আদম ও হাওয়া (আ.) ৩০০ বছর কান্নার পরে ক্ষমা পেয়েছিলো এমন আয়াত কোরআনে উল্লেখ নেই
২৪. নবী করিম (সা.)কে অনুসরণের সহজ উপায়
২৫. সত্যের বিপরীতে দীনের মধ্যে যাহা অনুপ্রবেশ করেছে তাহা বর্জন করা
২৬. আল্লাহকে সেজদা করা মানেই আল্লাহকে আজিম করা
২৭. তোমরা যাহা দ্বারা আক্রান্ত হবে তাহা দ্বারা তাহা প্রতিহত কর?
২৮. কোরআনের এক আয়াত অন্য আয়াতের পরিপন্থী নহে
২৯. তোমরা তোমাদের দ্বীনকে কায়েম কর
৩০. নবী মোহাম্মদ (সা.) স্বরূপে সেজদাকারী ছিলেন
৩১. যারা চুল-দাড়ি-গোফ কর্তন করে দুনিয়ার শোভা রক্ষা করার জন্য পরকালে তাদের জন্য শাস্তি
৩২. আল্লাহ নিজের সুরতে আদম তৈরি করবে বিধায় কুন্ শব্দে আদম (আ.)কে সৃষ্টি না করে মাটি দিয়ে তৈরি করে
৩৩. দ্বীনের ক্ষেত্রে সঠিক দল কোনটি
৩৪. আল্লাহ সম্পর্কে ধারাণা, কল্পনা, অনুমান গ্রহণযোগ্য নহে
৩৫. চুল দাড়ি গোঁপ রাখা সম্যক গুরু রসুলগণের বেশ
৩৬. মোহাম্মদ (সঃ) শেষ রসুল নহে এই মর্মে আয়াত কি
৩৭. আদম কাবায় সেজদার মাধ্যমে ইবলিসের ঈমান পরীক্ষা করা হবে এবং নবী (সঃ)কে সেজদা দিয়েছে সাহাবীরা তাঁর প্রমাণ স্বরূপ আয়াত কি?
৩৮. তোমার প্রভুর ঠিকানা সাব্যস্ত কর
৩৯. আদম কাবায় সেজদাই সেরাতুল মুস্তাকীম
৪০. রসুল পদ থেকে নবী পদ উচ্চ বিধায় নবীগণকে রসুল নামে ডাকা যাবেনা
৪১. নবী মুহাম্মদ (সঃ) এর সেলসিলাভক্ত সম্যকগুরুগণকে যারা রসুল হিসেবে বিশ্বাস করে না উহারা কোরানের কতক আয়াত পালনে ব্যর্থ
৪২. নবী পদ হচ্ছে রসূল পদ অপেক্ষা উচ্চ পদ
৪৩. আল্লাহর সাথে কাউকে ডাকা যাবে না।
৪৪. রসূলকে দেখার মাধ্যমেই আল্লাহকে দেখা
৪৫. মুত্ত্বাকীদের বৈশিষ্ট্য গুলো কী
৪৬. আল্লাহ স্বরণে নিমগ্ন হওয়া এবং প্রবৃত্তি বা নফস দমনের উপায় কী
৪৭. কোরআন নির্ভূল
৪৮. তুর পাহাড়ে মুসা (আ:) এর কাছে স্বয়ং আল্লাহ অথচ
হেরা গুহায় জীব্রাইল কেন?
৪৯. এজিদী অনুসারীদের পরিচয় কী ও তাদের চেনার উপায় কী?
৫০. মাথানতকারী দলের সাথে থেকে মাথানত করা
৫১. আল্লাহকে সাহায্য করার উপায় কি?
৫২. একমাত্র ক্ষমা প্রাপ্তির আশায় এজিদের বিপরীত
বেশ ধারণ করতে হবে
৫৩. মোমিন ব্যতীত সকল সৎ কর্ম বিনষ্ট হবে
৫৪. মোমিনের দলভুক্ত হওয়ার উপায় কী?
আল্লাহ বলেন, বল আমি কি তোমাকে বলে দিব না? কর্মে বিশেষ ক্ষতিগ্রস্থ কারা? (সূরা কাহফ- ১০৩)। পার্থিব জীবনে যাদের প্রচেষ্টা প-ু হয়, যদিও তারা মনে করে যে, তারা সৎ কর্মই করিতেছে। (সূরা কাহফ- ১০৪)। এখানে উল্লেখ্য যে, যারা দুনিয়াতে খারাপ কর্মে লিপ্ত, তাদের কথা এই আয়াতে বলা হয় নাই বরং যারা পবিত্র কোরআন মাফিক দ্বীনের জ্ঞান লাভ না করে মানব রচিত গ্রন্থ মোতাবেক দ্বীন পালন করে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এই আয়াতে তাদের কথা বলা হয়েছে। এখানে উল্লেখ্য যে, আল্লাহ বলেন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে রসুলের অনুসরণ কর, তাহলে তোমাদের পাপরাশি ক্ষমা করা হবে। (সূরা ইমরানÑ৩১)। এই আয়াতের ভাবগত অর্থ হচ্ছে দ্বীনের ক্ষেত্রে সকল কর্মকান্ড রসূল সংশ্লিষ্ট হতে হবে। আবার রসুলের হাত আল্লাহর হাত বিশ্বাস করে (৪৮ঃ১০)। অতএব সুরা ইমরানের ৩১ নং আয়াত এবং সূরা ফাতহ এর ১০ নং আয়াত এই দুই আয়াত অনুসারে রসূল তথা গুরু রূপে যদি কেহ আল্লাহকে স্মরণ না করে সরাসরি আল্লাহর একক গুণবাচক নামে আল্লাহকে ডাকে কিংবা আল্লাহর জাত নাম ধরে আল্লাহকে ডাকে সেক্ষেত্রে আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করবেন না। কারণ ঐসকল একক গুণবাচক নামগুলির সাথে রসুলের নামের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই কিংবা আল্লাহর জাত নামের সাথে রসুলের নামের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই বিধায় ইবলিশের অনুসারীরা রসুল তথা গুরুরূপে আল্লাহকে স্মরণ না করে সরাসরি আল্লাহর ঐ সকল একক গুণবাচক নাম জপনা করে কিংবা আল্লাহর জাত নাম জপনা করে পাপসমূহ ক্ষমা পাওয়ার অধিকারী হয়ে যায়। কারণ ইবলিশ আল্লাহকে প্রভু বলে ডাকে (হিযর-৩৬) (৩৮ঃ৭৯)। সেক্ষেত্রে সুরা ইমরানের ৩১ নং আয়াতটি ব্যর্থ হয় আর যারা আল্লাহর আয়াতকে ব্যর্থ করার চেষ্টা করে তাদের জন্য কঠিন শাস্তি জাহান্নাম (হজ্ব-৫১)। সেহেতু আল্লাহর যে সকল নামের সাথে রসুলের নাম ও রূপের সংশ্লিষ্টতা নেই আল্লাহর সেই সকল একক গুণবাচক নাম জপনা করে কেহ আল্লাহর ক্ষমা পাওয়ার অধিকারী হবে না। তাই আল্লাহকে এমন নামে ডাকতে হবে আল্লাহর যে নামটি রসুলের গুণবাচক নামের সহিত সংশ্লিষ্ট। সেক্ষেত্রে দেখা যায় সুরা আর রহমানের ৪ নং আয়াতে আল্লাহর গুণবাচক নাম গুরু এবং সুরা বাকারার ১৫১ নং আয়াতে দেখা যায় রসুলের গুণবাচক নাম গুরু। তাহলে দেখা যায় গুরু নামটি আল্লাহর এমন একটি গুণ বাচক নাম যে নামটি রসুলের গুণবাচক নামের সহিত সংশ্লিষ্ট। আর তাই গুরু নামে আল্লাহকে ডাকলে সুরা ইমরানের ৩১ নং আয়াতটি অনুসরণ করা হয় বিধায় যারা গুরু নামে আল্লাহকে ডাকে তারাই আল্লাহর দয়া ও ক্ষমা পাওয়ার অধিকারী। আল্লাহর দয়া ও ক্ষমা পেলেই শান্তির বিষয়টা প্রাপ্তি হয় বিধায় জয়গুরু কথার ভিতরে শান্তি কথাটি নিহিত আছে। আর তাই মানুষের মাঝে শান্তি প্রতিষ্ঠিত করতে হলে ‘জয় গুরু’ বলাই উত্তম পন্থা। কারণ মৌখিকভাবে সালাম বিনিময়ের কাজটি ইবলিশের অনুসারীরাও করে। পক্ষান্তরে জয়গুরু কথাটি ইবলিশের অনুসারীরা ব্যবহার করে না। এই জন্য যে, আল্লাহ ও রসুল উভয়ের গুণবাচক নাম গুরু, তাই ইবলিশ যদি আল্লাহকে গুরু নামে ডাকে তাহলে রসূলকে গুরু নামে ডাকা হয়ে যায়। আর রসূলকে গুরু নামে ডাকলে রসূলকে আল্লাহর গুণবাচক নামে ডাকা হয়ে যায়। আর রসুলকে আল্লাহর কোনো গুণবাচক নামে ডাকলে রসুলকে আল্লাহ বলার সামিল হয়ে যায়। কিন্তু ইবলিশ আল্লাহর গুণ বাচক নামে কাউকে ডাকবে না। কারণ আল্লাহর গুণবাচক নামে যাকে ডাকা হবে, তাকে মূলত আল্লাহ বলার সামিল হয়ে যায়। এই জন্য ইবলিশ গুরু নামে আল্লাহ ও রসূলকে ডাকে না। কারণ গুরু নামে আল্লাহ ও রসূলকে ডাকলে আল্লাহ ও রসূল উভয়কে একাকার ও অবিচ্ছিন্ন ভাবে ডাকা হয়ে যায়, কিন্তু ইবলিশ আল্লাহকে আল্লা বলে ডাকবে এবং রুসূলকে রসূল বলে ডাকবে (নূর-৪৭)। কিন্ত ইবলিশ কখনো কোন ভাবেই আল্লাহ ও রসূলকে একাকার ও অবিচ্ছিন্ন ভাবে ডাকবে না। কারণ যারা রসূল থেকে আল্লাহকে ফারাক করে বা পৃথক করে বা ঝবঢ়ধৎধঃব করে প্রকৃতপক্ষে উহারাও আল্লাহ ও রসূল অস্বিকারকারী (নেছা-১৫০)। এই মর্মে আল্লাহ বলেন, রসূল তথা মানুষের গর্দানের শাহা রগ থেকেও আমি অতি নিকটে আছি। (কাফ-১৬)। এবং রসুলের হাতই আল্লাহর হাত। (ফাতহ-১০)। এই দুই আয়াত অনুসারে আল্লাহ ও রসূলকে একাকার ও অবিচ্ছিন্ন ভাবে ডাকা জরুরী হয়। কিন্তু ইবলিশ কখনোই আল্লাহ ও রসূলকে একাকার ও অবিচ্ছিন্ন ভাবে ডাকবে না। কারণ এইভাবে ডাকলে রসুল সুরতে আল্লাহকে সেজদা করা লাগে। কিন্ত ইবলিশ কখনোই রসুল কাবায় তথা আদম কাবায় আল্লাহকে সেজদা করবে না। (১৫ঃ৩৩) বিধায় ইবলিশ এবং ইবলিশের অনুসারীরা কখনও জয়গুরু বলে না। যে কাজটি ইবলিশ এবং ইবলিশের অনুসারীরা করে না সেটাই উত্তম কাজ। বিধায় গুরু নামটি আল্লাহর উত্তম নাম বা সুন্দর নাম। আর আল্লাহ বলেন, তোমরা উত্তম নামে ও সুন্দর নামে আমাকে ডাক (আরাফ-১৮০)। তাই গুরু নামে জয় কামনা করাই উত্তম। তাই গুরু নামে যারা আল্লাহ ও রসূলকে একাকার ও অবিচ্ছিন্নভাবে ডাকেনা উহাদের আল্লাহ নাম জপনাটা রসুল সংশ্লিষ্ট নহে বিধায় উহারা সুরা ইমরানের ৩১ নং আয়াত অনুসারে ক্ষমা পাওয়ার অধিকারী হয় না, আর আল্লাহর দয়া ও ক্ষমা ছাড়া কেহ শাস্তি থেকে রেহাই পাবে না। (নূর-১৪)। ফলে যারা জয়গুরু বলেনা, উহারাও কর্মকরার পরও ক্ষতিগ্রস্থ হবে। (বিঃ দ্রঃ হাসিবুল হক চিশ্তির লেখা পবিত্র কুরআন থেকে আলোচনা গ্রন্থের ‘জয়গুরু’ অধ্যায়ে বিস্তারিত দেখুন)।
এখানে উল্লেখ্য যে, সুরা ইমরানের ৩১ নং আয়াতটিতে বলা হয়েছে, “তোমরা রসুল (স) কে অনুসরণ কর”। আর সে ক্ষেত্রে দেখা যায় রসুল (স) আল্লাহকে দেখেছেন। সূরা নাজম- ১ থেকে ১৮ নং আয়াতে তা উল্লেখ পাওয়া যায়। (বিঃ দ্রঃ হাসিবুল হক চিশ্তির লেখা পবিত্র কুরআন থেকে আলোচনা গ্রন্থের ‘মুসা (আ) ও মুহাম্মদ (স) স্ব-রূপে আল্লাহ দর্শন করেছেন অধ্যায়ে বিস্তারিত দেখুন)। সেক্ষেত্রে হযরত মুহাম্মদ (স) আল্লাহকে দেখে আল্লাহকে স্মরণ করেছেন। তিনি আল্লাহকে দেখেছেন বিধায় তিনি আল্লাহকে স্মরণ করতে সক্ষম হয়েছেন। কারণ অদেখা কোনকিছু স্মরণ করা সম্ভব নয় বিধায় যারা আল্লাহকে দেখেনি তারা আল্লাহকে স্মরণ করতে পারবে না। আর তাই তারা আল্লাহ সম্পর্কে অন্তরে ধারনা, কল্পনা বা অনুমান করে বসে। কিন্তু আল্লাহ সম্পর্কে অন্তরে ধারনা, কল্পনা বা অনুমান মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। (সুরা ইউনুসÑ৩৬)। এই আয়াত অনুসারে উহারা ক্ষতিগ্রস্থ। কারণ উহারা আল্লাহকে স্মরণ করার ব্যাপারে হযরত মুহাম্মদ (সঃ)কে অনুসরণ করে নাই। কারণ হযরত মুহাম্মদ (স) আল্লাহকে দেখে স্মরণ করেছেন পক্ষান্তরে তারা আল্লাহকে না দেখার কারণ আল্লাহকে স্মরণ করতে সক্ষম হয় নাই বিধায় সুরা ইমরানের ৩১ নং আয়াত অনুসারে আল্লাহকে স্মরণ করা ব্যাপারে হযরত মুহাম্মদ (স) এর অনুসারী হতে পারে নাই বিধায় তারা সৎ কর্ম করেও ক্ষতিগ্রস্থ।
রসূল সম্পর্কে বিভ্রান্তিদের বিশ্বাস হচ্ছে, এখন কোন রসূল নেই। সেক্ষেত্রে কুরআনের কতগুলো আয়াত প্রশ্নবিদ্ধ হয়। যেমন আল্লাহ বলেন, রসুল না পাঠিয়ে আমি কাউকে শাস্তি দেই না। (১৭ঃ১৫)। কুরআন আবৃত্তি করার জন্য কোন জনপদে রসূল না পাঠিয়ে জনপদ ধ্বংস করিনা। (২৮ঃ৫৯)। রসূল না পাঠিয়ে কাউকে শাস্তি দিলে কিংবা জনপদ ধ্বংস করিলে তারা বলিত, আমাদের কাছে রসূল পাঠাইলে না কেন? পাঠাইলে আমরা মমিন হতাম (২৮ঃ৪৭)। প্রত্যেক উম্মতের কাছে আল্লাহ রসূল পাঠান। (১০ঃ৪৭)। সেদিন আল্লাহ জিজ্ঞাসা করবেন, তুমি কিভাবে কাফের হইলে, তোমার ভিতর রসূল উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও। (৩ঃ১০১)। উপরোক্ত আয়াতগুলোতে প্রমাণিত হয় যে, রসূল ব্যবস্থা সার্বক্ষণিক। তাছাড়াও নবী ও রসূল সম্পর্কে অনেকের ধারণা নবী ও রসূল একই ব্যক্তি বা একই পদ কিন্তু না, নবী ও রসূল একই পদ নহে কিংবা একই ব্যক্তি না ও হতে পারে। কারণ সূরা ইমরানের ৮১ নং আয়াতে নবীদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, তোমাদের কাছে যখন একজন রসুল আসবে তখন তাকে বিশ্বাস করবে ও সাহায্য করবে। এই আয়াতে প্রমাণ হয় নবীদের কাছে যে রসূল আসবেন বলে এই আয়াতে উল্লেখ আসছে তিনি নিশ্চয় নবী নহে। আবার সুরা নেছার ৬৯ নং আয়াতে উল্লেখ আসছে, রসূলের আনুগত্য করলে তোমরা নবীর সঙ্গী হবে। এই আয়াতে উল্লিখিত যে রসুলের আনুগত্য করলে নবী পাওয়া যাবে তিনি নিশ্চয়ই নবী নহে। উপরোক্ত দুই আয়াতে প্রমাণ হয় নবী ও রসূল একই ব্যক্তি না ও হতে পারে। তবে প্রত্যেক নবীই রসুল। সে ক্ষেত্রে নবী ও রসূল একই ব্যক্তি হতে পারে তবে নবী ও রসূল ভিন্ন পদ। কুরআনে উল্লেখ আসছে, নবী পদ শেষ কিন্ত রসূল পদ শেষ এমন কোন আয়াত কুরআনে নেই। বরং রসূল পদটি হস্তান্তরযোগ্য। (সুরা আনআম-১২৪)। বিশ্বাসী মমিন ব্যক্তিদের মধ্য থেকে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে রিসালতের প্রতিনিধিত্ব নির্ধারণ করেন। (সুরা নুর-৫৫)। এইভাবে রসূল পদ সার্বক্ষণিক। কারণ সুরা ইমরানের ৮১ নং আয়াতের নবীদের অঙ্গিকারের মাধ্যমে প্রত্যেক নবীর পরেই একজন বিশ্বস্থ রসুলের কাছে রিসালাতের ভার অর্পনের মাধ্যমে রসূল ব্যবস্থা সার্বক্ষণিক রাখা হয়েছে। তাই দুই নবীর মাঝখানে ফাতারাতি পিরিয়ডেও রসূল ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে তারা না বলতে পারে যে, আমরা তো কোন রসুল পাই নাই। (মায়েদা-১৯) যেমন নবী ঈসা (আঃ) ও নবী মুহাম্মদ (সঃ) এর মাঝখানে ৫০০ বৎসর কোন নবী বা ওহী ছিলনা, কিন্তু রসূল ছিল মায়েদা-১৯ আয়াত অনুসারে। তাহলে দেখা যাচ্ছে নবী মুহাম্মদ (সঃ) এর পূর্বে অনেক রসূল ছিল যাদের প্রতি ছিলনা কোন অহি (আম্বিয়া-২৫)। যাদের প্রতি অহি নাযিল হয় তাঁহারা নবী, আর যাদের প্রতি রেসালাত দেওয়া হয় তাঁরা রসুল। দেখা যায় প্রত্যেক নবীর প্রতি অহি নাযিল হয়েছে (নেছা-১৬৩)। প্রত্যেক নবীর প্রতি নবুয়ত দেওয়া হয়েছে (ইমরান-৭৯) প্রত্যেক নবীকে কিতাব দেওয়া হয়েছে (ইমরান-৮১) এবং প্রত্যেক নবীকে রেসালাত দেওয়া হয়েছে (জ্বিন-২৩)। তাহলে দেখা গেল, প্রত্যেক নবীই রুসল। নবীদের ভিতর কোন পার্থক্য নেই। (বাকারা-১৩৬)। এখানে উল্লেখ্য যে, নবী মুহাম্মদ (সঃ) এর পূর্বে এবং নবী ঈসা (আঃ) এর পর কোন নবী বা অহি ছিলনা। কিন্তু এখানে রসুল ছিল (মায়েদা-১৯)। এইসকল রসূল কিন্তু নবী নহে। এই মর্মে আল্লাহ বলেন, তোমার পূর্বে কি আমি এমন অনেক রুসল পাঠাইনি? যারা নবী নহে? (হজ্ব-৫২)। ঠিক একই ভাবে নবী মুহাম্মদ (সঃ) এর পর থেকে রোজ কেয়ামত পর্য্যন্ত এটাও একটা ফাতারাতি পিরিয়ড,এখানে কোন নবী বা ওহী থাকবে না, কিন্তু সুরা আহযাবের ৭ নং আয়াত ও সুরা ইমরানের ৮১ নং আয়াত এর অঙ্গিকার অনুসারে একজন বিশ্বস্ত রসুলকে রিসালাতের ভার দিয়ে রসূল হিসাবে রেখে গেছেন। সেই রসূলের ধারাবাহিকতা বর্তমান পর্যন্ত চালু আছে এবং রোজ কেয়ামত পর্যন্ত চালু থাকবে। আর সেই রসুলের গুণবাচক নাম গুরু। আর সেই রসুলগণই হচ্ছে সম্যক গুরু। আর তাই সম্যক গুরুগণকে যারা রসুল হিসাবে আনুগত্য করে তারাই রসূলের আনুগত্যকারী। আর রসূলের আনুগত্যকারীদের কর্মফল বিনষ্ট হবে না। (হুজরাত-১৪) (বিঃ দ্রঃ হাসিবুল হক চিশতীর পবিত্র কুরআন থেকে বিষয় ভিত্তিক আলোচনা গ্রন্থের ১ম খন্ডে ‘রসূল ব্যবস্থা সার্বক্ষণিক’ এবং ‘সম্যক গুরুই রসূল’ এই দুইটি অধ্যায় বিস্তারিত দেখুন)। তাই যারা সম্যক গুরুকে রসুল হিসাবে বিশ্বাস করে না বিধায় তারা কোরআন মাফিক রসুল বিশ্বাসী নয় বিধায় তারাও মমিন নহে। ফলে উহারা ক্ষতিগ্রস্থ হবে। (সুরা আছর-১)।
যারা বলে আল্লাহর কোন আকৃতি নাই কিন্তু আল্লাহর কোন আকৃতি নাই মর্মে পবিত্র কুরআনে কোন আয়াত নাই। অনেকে বলে আল্লাহ অদৃশ্য কিন্তু আল্লাহ অদৃশ্য মর্মে কোন আয়াত নাই। বরং আল্লাহর আকৃতি সম্পর্কে সূরা সাদ-এর ৭৫ নং আয়াতে বলা হয়েছে আল্লাহর হাত আছে, সূরা কালাম এর ৪২ নং আয়াতে উল্লেখ আছে, আল্লাহর পা আছে, সূরা কাসাস এর ৮৮ নং আয়াতে উল্লেখ আছে, আল্লাহর চেহারা আছে। সূরা হাদিদ এর ৩ নং আয়াতে উল্লেখ আছে, আল্লাহ প্রকাশ্য এবং সূরা সেজদার ৪নং আয়াতে উল্লেখ আছে, আল্লাহ ৬ দিনে পৃথিবী তৈরী করে আরশে আযিমে সমাসিন হইলেন। অতএব যেখানে দাঁড়ানো ও বসা উল্লেখ আছে, সেক্ষেত্রে আল্লাহ অবশ্যই দেহ ধারণ করতে সক্ষম। অনেকে বলে ইহকালে আল্লাহ মানুষের সাথে কথা বলে না, কিন্তু সূরা শুরা-র ৫১ নং আয়াতে উল্লেখ আছে, আল্লাহ ছদ্মবেশ ধারণ করে ইহকালেই মানুষের সাথে কথা বলেন, যেমন মুসার সাথে আল্লাহ সরাসরি কথা বলেছেন। (সুরা নেছা-১৬৪)। তারপরও অনেকে মুসার সাথে আল্লাহর সাক্ষাতের বিষয়টা সন্দেহ করে, অথচ আল্লাহ বলেন, মুসার সাথে সাক্ষাতের বিষয় সন্দেহ করিও না। (৩২ঃ২৩)। অনেকে বলে নবী মুহাম্মদ (সঃ) আল্লাহকে দেখেনি, অথচ সূরা নজমের ১ থেকে ১৮ নং আয়াতে উল্লেখ আছে, হযরত মুহাম্মদ (সঃ) নিজ আকৃতিতে আল্লাহ দর্শন করেছেন। কিন্তু কিতাবীরা এই বিষয়ে মানুষ কে বিভ্রান্তি করে নিজেদের দ্বীনে মত ভেদ সৃষ্টি করেছে (৩০ঃ৩২) এবং আল্লাহর দর্শন থেকে মানুষকে দুরে রাখে। কারন দ্বীন সম্পর্কে অযোগ্য উত্তর পুরুষগন কিতাবী দের স্থলাভিসিক্ত হয় (৭ঃ১৬৯)। এজন্য মুমিন দের উদ্যেশে আল্লাহ বলেন তোমরা কিতাবীদের দল বিশেষের আনুগত্য করিও না। উহারা তোমাকে কাফির বানিয়ে দিবে (৩ঃ১০০)। কিন্তু দুঃখের বিষয় বর্তমানে অধিকাংশ মানুষই কিতাবিদের কথা মত চলে। আর, আল্লাহ বলেন, অধিকাংশ মানুষ আল্লাহর সাক্ষাৎ অস্বীকারকারী (সুরা রূমÑ৮)। যদি তুমি অধিকাংশ মানুষের কথা মত চলো তাহলে ওরা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বঞ্চিত করে দিবে (৬ঃ১১৬)। অনেকেই বলে ইহকালে আল্লাহর সাক্ষাৎ হবে না, বরং মৃত্যুর পরে আল্লাহর সাক্ষাৎ হবে এটা আমরা বিশ্বাস করি বিধায় আমরা আল্লাহর সাক্ষাৎ অস্বীকারকারী নই। তাদের কথা ঠিক নয়, কারণ ১ম সিংগায় ফুৎকার দেওয়ার পূর্বে মৃত্যুর পর কাফের ও মমিন সকলেই আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ করবে কারণ সেদিন কাফেররাও স্পষ্টভাবে আল্লাহকে দেখতে পাবে। (সুরা মরিয়মÑ৩৮)। আর কঠোর সাধনার মাধ্যমে দুনিয়াতে আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ করার জন্য আল্লাহ বলেন, “হে মানুষ তোমরা তোমার প্রভুর দিকে কঠোর সাধনা কর, অতঃপর তার সাক্ষাৎ লাভ করবে”। (সুরা ইনশিকাকÑ৬)। অতএব, কঠোর সাধনার মাধ্যমে যে সাক্ষাৎকার ঘটবে সেটা নিশ্চয়ই দুনিয়াতে, কারণ মৃত্যুর পরে কাফের-মুমেন সকলেই আল্লাহর দর্শন লাভ করবেন (১৯ঃ৩৮)। দুনিয়াতে প্রভুর দর্শন লাভ না করে এই বিষয়ে অন্ধ থাকবে ১ম সিংগায় ফুৎকার দেওয়ার কারণে মৃত্যুর পর কবর থেকে উঠার পর সে রোজ কেয়ামতের পর হাশরের দিনও অন্ধ থাকবে। (১৭ঃ৭২) এবং সেদিন উহারা দৃষ্টিহীন অবস্থায় উঠিবে। (২০ঃ১০২)। সেদিন উহারা অন্ধ অবস্থায় উঠিবে যদিও দুনিয়াতে উহাদের চক্ষু ছিল। (২০ঃ১২৪)। ফলে হাশরের দিন কাফেরা প্রভুর (দর্শন) থেকে অন্তরীত থাকবে। (৮৩ঃ১৫)। আর তাই যারা ইহকালে আল্লাহর সাক্ষাৎ অস্বীকার করে মূলত তারাই আল্লাহর সাক্ষাৎ অস্বীকারকারী। আর যারা প্রভুর সাক্ষাৎ অস্বীকারকারী তাদের কর্মফল বিনষ্ট হবে এবং কিয়ামতের দিন তাদের জন্য ওজনের জন্য কোন ব্যবস্থা থাকবে না। (সুরা কাহফÑ১০৫)। মমিন হওয়ার শর্ত হচ্ছে, আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ। এই মর্মে আল্লাহ বলেন, মমিনগন জেনে রাখুক তারা নিশ্চিত আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ করবে। (সুরা হুদÑ২৯)।
অতএব, যারা ইহকালে আল্লাহর সাক্ষাৎ অস্বীকার করে তারাও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এখানে উল্লেখ্য যে, যেহেতু নবী মুহাম্মদ (স) আল্লাহকে দেখেছেন, তাহলে আল্লাহর চেহারা বা আকৃতি আছে। এই মর্মে আল্লাহ বলেন, সকল কিছু ধ্বংস হবে আল্লাহর চেহারা ব্যতীত। (সুরা কাসাস-৮৮)। এই আয়াতে ওয়াজহুন শব্দ এসেছে। আর ওয়াজহুন শব্দের অর্থ চেহারা বা মুখমন্ডল। (আরবী অভিধান পৃঃ নং- ২৫২৮)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর অনুবাদ আল-কুরআনুল কারীম এর টিকা নং-১৩১৪)। (পূর্বে উল্লেখিত গ্রন্থের ‘আল্লাহর আকৃতি আছে’ অধ্যায়ে বিস্তারিত দেখুন)। এখানে উল্লেখ্য যে, আল্লাহ মানুষের সাথে কথা বলার সময় হিযাব ধারণ বা ছদ্মবেশ ধারণ করে কথা বলেন (সূরা শুরা-৫১)। এতে প্রমাণ হয় যে, আল্লাহর নিঃআকার নহে, রবং আল্লাহর আকৃতি আছে এবং তিনি আকৃতি ধারণ করে প্রকাশ হতে সক্ষম। কাজেই যারা আল্লাহকে আকৃতিগতভাবে বিশ্বাস করেন না উহারা কুরআন মাফিক আল্লাহ বিশ্বাসী নয় বিধায় উহারা ক্ষতিগ্রস্থ হবে। (সুরা আছরÑ১)।
আল্লাহ বলেন, তোমরা আদমের নিমিত্তে সেজদা কর (৭ঃ১১)। এই সেজদা সম্পর্কে অনেকে মানুষকে বিভ্রান্তি করে বলে, যে এটা শুধু ফেরেস্তাদের জন্য হুকুম ছিল এটা আমাদের জন্য প্রযোজ্য নহে। কিন্তু তাদের কথা ঠিক নহে, কারণ ইবশিল ছিল জ্বীন জাতীয় (১৮ঃ৫০)। ইবলিশ জ্বীন হওয়া সত্তেও আদমকে সেজদা না করেই কাফের (২ঃ৩৪)। এতে প্রমাণিত হয় আদম সেজদা শুধু ফেরেস্তাদের ভিতরই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং সকলের জন্য প্রযোজ্য। আর তাই ইউসুফ (আঃ)-কে সেজদা দিল তার ১১ ভাই ও তার পিতা মাতা (১২ঃ১০০)। এরা বলে এই সেজদা ছিল সম্মানজনক সেজদা। কিন্তু না, সম্মানজনক সেজদা বলে কোন সেজদা নেই। সকল সেজদা একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে (৭২ঃ১৮)। আর বেহেস্তের মধ্যে ফেরেস্তারা আদমের নিমিত্তে যে সেজদা করেছিল যেটা মূলতঃ আল্লাহকেই। কারণ আদমের ভিতরে আল্লাহ নিজ রুহু ফুৎকার করা হয়েছিল (১৫ঃ২৯) (৩৮ঃ৭২)। অতএব, আদমকে কেবলা করে আদম সুরতে আল্লাহকে সেজদা দিয়েছিল। কারণ আল্লাহর যেমন সুরত তেমন সুরতে মানুষ তৈরী (ইনফিতর-৮)। আর আল্লাহ নিজ প্রকৃতি অনুসারে মানুষ তৈরি (৩০ঃ৩০)। আদম ছিল আল্লাহর প্রতিনিধি। (২ঃ৩০)। আর তাই ফেরেস্তারা আদম (আঃ)কে কেবলা করে আল্লাহকে সেজদা করছে এটা নিশ্চিত। এখানে একটি প্রশ্ন যে, যদি এই সেজদা সকলের জন্য প্রযোজ্য হবে তাহলে কেন ফেরেস্তাদের নাম উল্লেখ করা হলো। এর উত্তর হচ্ছে এই যে, আল্লাহ জানত যদি ফেরেস্তাদের নাম উল্লেখ করা না হতো তাহলে ফেরেস্তারা আদম সেজদা থেকে বিরত থাকতো। কারণ ইতিপূর্বে আল্লাহ যখন মানুষ সৃষ্টির বিষয়ে ফেরেস্তাদের নিকট ব্যক্ত করেছিল, তখন তারা দ্বিমত পোষণ করেছিল (২ঃ৩০)। আর তাই যাতে আদমকে সেজদা থেকে ফেরেস্তারা বিরত না থাকে সেজদার সময় ফেরেস্তাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে যেন তারা সেজদা থেকে বিরত না থাকে। সেইজন্য আদম সৃষ্টিরও অনেক আগে ফেরেস্তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল যে, যখন আমি আদমকে তৈরি করিব উহাতে আমার রুহু সঞ্চার করিব তখন তোমরা সেজদা করিবে (৩৮ঃ৭২) (১৫ঃ২৯)। তাই ফেরেস্তারা জানিত যে সেজদাটা মূলত আল্লাহর রুহুকেই করতে বলা হয়েছে এইজন্য ফেরেস্তারা আদম ছুরতে আল্লাহকেই সেজদা করেছিল। কিন্তু ইবলিশ জানতনা যে আদমের মধ্যে আল্লাহর নিজ রুহু ফুৎকার করা হয়েছে। কারাণ যখন ফেরেস্তাদের বলা হয়েছিল আদমের মধ্যে আমার রুহু ফুৎকার করা হইবে, সেখানে ইবলিশ উপস্থিত ছিল না, আর ইবলিশকে বলাও হয় নাই। কারণ ঐ আয়াতে (৩৮ঃ৭২) (১৫ঃ২৯) ফেরেস্তাদেরকে বলা হয়েছে উল্লেখ আসছে, কিন্তু ইবলিশ তথা জ্বীনদেরকে বলা হয়েছে, উল্লেখ নেই। এইজন্য ইবলিশ জানতা না যে আদমের মধ্যে আল্লাহর রুহু ফুৎকার করা হয়েছে এইজন্য সে আদমকে সেজদা করে নাই। কিন্তু যদি জানত যে আদমের মধ্যে আল্লাহর রুহু ফুৎকার করা হয়েছে তাহলে সে অহংকার করিত না। ফলে ফেরেস্তাদের সাথে ইবলিশও আদম সেজদায় শামিল হতো। এখানে উল্লেখ্য যে, ফেরেস্তাদেরকে লানত দেওয়ার ইচ্ছা আল্লাহর ছিলনা বিধায় আদমকে সেজদার সময় আল্লাহ ফেরেস্তাদের নাম উল্লেখ করেছেন। আদমকে সেজদার সময় ফেরেস্তাদের নাম উল্লেখ করার ২য় কারণ হচ্ছে এই যে, ফেরেস্তারা আল্লাহর ১ম সৃষ্টি। অর্থাৎ সৃষ্টির দিক থেকে বয়োজেষ্ঠ। সেক্ষেত্রে আল্লাহর খলিফাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য বয়োজেষ্ঠদেরকে সেজদার আওতায় আনলে বাকী সকল সৃষ্টি আদম সেজদার আওতাভুক্ত বলে গন্য হবে। সেইজন্য আল্লাহ পাক আদমকে সেজদার সময় ফেরেস্তাদের নাম উল্লেখ করেছিল, যাতে ফেরেস্তারা কোন ভাবে আদম সেজদা থেকে বিরত না থাকে। তারপরও অনেকে বলে আদম সেজদার এই সমস্ত আয়াতগুলি রহিত করা হয়েছে। কিন্তু না, পবিত্র কোরআনের কোন আয়াত রহিত করা হয় নাই (২ঃ১০৬)। তারপরও অনেকে বলে আদম সেজদার নিয়মটি আদম থেকে ইউসুফ পর্যন্ত চালু ছিল। তার পরবর্তীতে এই নিয়ম রহিত করা হয়েছে। কিন্তু না, আল্লাহ বলেন, আমার নিয়মের কোন পরিবর্তন নাই। (১৭ঃ৭৭)। আর তাই আদম কাবায় আল্লাহকে সেজদার নিয়ম পরিবর্তন করা হয় নাই, বরং আল্লাহ বলেন, ইহাই আমার নিকট পৌছানো সরল পথ (১৫ঃ৪১)। ইবলিশ বলে, আমি এই সেরাতুল মোস্তাকিমে বসিয়া সকলকে পথ ভ্রষ্ট করিবো আমি যেমনভাবে পথ ভ্রষ্ট হলাম। (৭ঃ১৬)। আর ইহা দ্বারাই অধিকাংশ মানুষ পথভ্রষ্ট এবং ইহা দ্বারাই অধিকাংশ মানুষ হেদায়েতপ্রাপ্ত। (২ঃ২৬)। আর ইবলিশের বিষয়ে আল্লাহ বলেন, তোমরা ইবলিশের অনুসরণ করোনা, বরং ওখানে সেজদা কর এবং আমার নিকটবর্তী হয়ে যাও (আলাক-১৯)। ইবলিশ আল্লাহ বিশ্বাস করে ও আখেরাত বিশ্বাস করে (২ঃ৮)। সে আল্লাহ রসূল বিশ্বাস করে (২৪ঃ৪৭) সে আল্লাহ রসূল আনুগত্য স্বীকার করে (২৪ঃ৪৭)। সে সালাত আদায় করে (মাউন-৬)। সে আল্লাহ পাকের পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনা করে (৫৭ঃ১)। সে পুনরুত্থান দিবস বিশ্বাস করে (ছাদ-৭৯)। সে দোযখ বেহেস্ত ও ফেরেস্তা বিশ্বাস করে। কারণ তাকেতো বেহেস্ত থেকেই বহিষ্কার করা হয়েছিল। (১৫ঃ৩৪)। সে আল্লাহকে প্রভু বলে (১৫ঃ৩৬) (ছাদ-৭৯)। সে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পন করে (৩ঃ৮৩)। সে আল্লাহকে সেজদা করে (১৩ঃ১৫)। ইবলিশ একমাত্র আদম কাবায় সেজদা না দিয়েই কাফের (২ঃ৩৪)। অতএব যারা উপরোক্ত সকল কর্ম করার পরও একমাত্র আদম কাবায় আল্লাহকে সেজদা না করেই তারা ইবলিশের অনুসারী এতে কোন সন্দেহ নাই। ফলে উহারা কর্ম করার পরও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে (আসর-১)।
অনেকেই দ্বীনের বিষয়ে এজমা কেয়াস ও মানব রচিত গ্রন্থ তথাকথিত হাদীস দিয়ে ফয়সালা দেয়, অথচ আল্লাহ বলেন, এই কুরআন দ্বীনের বিষয়ে একমাত্র ফয়সালাকারী কিতাব। (৮৫ঃ১৩)। আর এই কুরআন দ্বীনের বিষয়ে পরিপূর্ণ (৫ঃ৩)। অতএব, যারা দ্বীনের বিষয়ে এই কুরআন মোতাবেক ফয়সালা করে না উহারাই যালিম, ফাসেক, কাফের। (৫ঃ৪৪) (৫ঃ৪৫) (৫ঃ৪৭)। যারা কুরআন মোতাবেক ফয়সালা করে নাই সেহেতু তাহারা ইবলিশের অনুসারী এতে কোন সন্দেহ নাই। আর ইবলিশের অনুসারীরাই যালিম, ফাসেক, কাফের। ইবলিশের অনুসারীরা নিশ্চয়ই মমিন নহে। আর মমিন ব্যতিত সকল মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ। তাই এই শ্রেণীর মানুষ কর্ম করার পরও ক্ষতিগ্রস্থ।
এখানে উল্লেখ্য যে, তোমরা আল্লাহ বিশ্বাস কর, রসুল বিশ্বাস কর, বলিওনা তিন। (সুরা নেছাÑ১৭১)। তিন পন্থীরা বলে আল্লাহতো তিনের ভিতরে এক জন (৫ঃ৭৩)। আর তাই রসুল ব্যতিত দ্বীনের ক্ষেত্রে অন্য কোন তৃতীয় ব্যক্তির আনুগত্য গ্রহণযোগ্য নহে। আর দ্বীনের ক্ষেত্রে রসুলের কোন বিকল্প ব্যবস্থা নেই বিধায় যারা ওলিল আমরগণকে কিংবা তাবলিগের আমীরগণকে কিংবা তাদের নিজের দলের আমীরগণকে কিংবা মসজিদের বেতনভুক্ত ইমামগণকে কিংবা উলামাগণকে কিংবা নিজেদের পীরগণকে রসুলের বিকল্প হিসাবে দ্বীনের ক্ষেত্রে আনুগত্য করে শেরেক করছে কারণ এরা কোন অবস্থায়ই রসুলের বিকল্প নহে। কারণ এদের আনুগত্য করলে সে আনুগত্য রসুলের হবে এমন আয়াত পবিত্র কোরআনে উল্লেখ নেই বিধায় যারা দ্বীনের ক্ষেত্রে এদের আনুগত্য করে তারাও শেরেকে গণ্য। (উল্লেখিত গ্রন্থের ‘রসুলের বিকল্প নাই’ অধ্যায়ে বিস্তারিত দেখুন।) আর যারা শেরেক করে তাদের কর্মফল বিনষ্ট হয়। (সুরা জুমারÑ৬৫)। শেরেক সবচেয়ে বড় জুলুম (৩১ঃ১৩)। আল্লাহ বলেন তোমাদের জুলুম দ্বারা কুলষিত করিও না (৬ঃ৮২)। শেরেকের পাপ ক্ষমা করা হবে না (৪ঃ৪৮)। তাই রসূলের বিকল্প হিসাবে যারা অন্যদের কে দ্বীনের ক্ষেত্রে আনুগত্য করে তারাই শেরেকের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
এখানে উল্লেখ্য যে, যারা দুনিয়ার কল্যাণ চায় তাদের পরকালে কোন অংশ নেই (সুরা বাকারা-২০০) উহারা পরকালের শাস্তি থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য যা কিছু করে তা নিঃষ্ফল হবে (সুরা হুদÑ১৬)। তাই দুনিয়ার কল্যাণ কামনায় ব্যস্ত থেকে দুনিয়া লাভকারী পরকালে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। (বিঃ দ্রঃ উল্লেখিত গ্রন্থের ‘ইহকালের কল্যাণ চাইলে পরকালে শাস্তি’ বিস্তারিত দেখুন)। আর যারা আখেরাতের সাক্ষাৎ অস্বীকারকারী তারাও ক্ষতিগ্রস্থকারী (সুরা আরাফ-১৪৭)। আর যারা সম্যক গুরুর সঙ্গ ধারণ না করে মারা যাবে তারা সেদিন ক্ষতিগস্থ হয়ে নিজের হস্ত ধ্বংসন করিবে, আর বলিবে, হায় আমি যদি তাদের সাথে রসুলের সঙ্গ ধারণ করতাম (২৫ঃ২৭)। আর যারা আল্লাহর ও রসুলের আনুগত্য করে মারা যাবে তাদের কর্মফল বিনষ্ট হবে না (সুরা হুজরাতÑ১৪)। এখানে উল্লেখ্য যে, সূরা ইমরানের ৩১ নং আয়াত অনুসারে রসূল (স)-কে অনুসারণ করা প্রয়োজন। আর নবী (স)-কে আল্লাহ বলেন, ‘তোমার প্রতি যাহা অহী অবতীর্ণ হয় তুমি তাহা অনুসরণ কর’ (সূরা আনআম-৫০)। আর নবী (স)- এর প্রতি অহী হইল প্রত্যেক সেজদায় তোমার নিজ চেহারা প্রতিষ্ঠিত কর (সূরা আরাফ-২৯)। অর্থাৎ এই আয়াত অনুসারে নবী (স) স্ব-রূপে সেজদা দিয়েছেন। যেহেতু সেজদার বিষয়ে নবী (স)-কে অনুসরণ করা প্রয়োজন, তাহলে সেজদার সময় একটি চেহারা যাজন করা প্রয়োজন হয়। আর তাই তারা প্রভুর উপাসনায় চেহারা যাজন করে তাহারা মুশরেকদের দলভুক্ত নহে (সূরা আনআম-৭৯)। তাহলে দেখা গেল প্রভুকে সেজদার সময় যারা রসূল রূপ বা রসূল চেহারা যাজন করেনা উহারা সেজদার বিষয়ে রসূল (স)-এর অনুসারী নহে। তাই সম্যক গুরু তথা রসুল চেহারায় আল্লাহর পায়ে সেজদা না দিয়ে যারা মারা যাবে, তারাও সেদিন আল্লাহর পায়ে সেজদা দিতে সক্ষম হবেনা বিধায় তারা ক্ষতিগ্রস্থ হবে (সুরা কালাম-৪২)। আর যদি কেহ সেজদার বিষয়ে রসূল (স) কে অনুসরণ না করে নিঃআকারে সরাসরি আল্লাহকে সেজদা দিয়ে মারা যাওয়ার পরে সেদিন আল্লাহর পায়ে সেজদা দিতে সক্ষম হয়, তাহলে সূরা ইমরানের ৩১নং আয়াতটি ব্যর্থ হয়। কিন্তু না, আল্লাহর আয়াত ব্যর্থ হবে না বিধায় কেহ নিঃআকারে আল্লাহকে সেজদা দিয়ে পরিত্রাণ পাবে না এটা নিশ্চিত। কারণ ইবলিশও নিঃআকারে আল্লাহকে সেজদা করে (সূরা রাদ-১৫)। এখানে উল্লেখ্য যে, যারা কুরআনের আয়াত অস্বীকার করে তাদের কর্মফল বিনষ্ট হবে, কেয়ামতের দিন তাদের ওজনের কোন ব্যবস্থা থাকবে না (সূরা কাহফের ১০৫) এবং যারা কুরআনে বুঝ অপছন্দ করে তাদের কর্মফল বিনষ্ট হবে (সুরা মুহাম্মদ-৯)। উপরোক্ত কারণে যারা পবিত্র কোরআন মাফিক দ্বীনের জ্ঞান লাভ না করে মানব রচিত গ্রন্থ মোতাবেক দ্বীন পালন করে সৎ কর্ম করার পরও যারা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বিধায় সূরা কাহফের ১০৪ নং আয়াতে এদেরকেই সর্তক করা হয়েছে।
একটি জীবকে মৃত্যুর পর পুনঃ জীবিত করা হচ্ছে (৩১ঃ২৮)। এই আয়াতে ‘বায়াছা’ শব্দ এসেছে, যার অর্থ ‘পুনঃ জীবিত করা’ (আরবী অভিধান পৃষ্ঠা নং- ৭০৩)। সূরা বাকারার ৫৬ নং আয়াতে বায়াছা শব্দের অর্থ পুনঃ জীবিত করা এই অর্থ করা হয়েছে। একটি জীব মৃত্যুর পর পুনঃ জীবিত হয়ে পুনরায় আর একটি জীব দেহ প্রাপ্ত হচ্ছে। ক্রমে ক্রমে সে উন্নত জীব দেহ প্রাপ্ত হচ্ছে। এইভাবে দীর্ঘ সময় চলতে থাকবে (৬ঃ৯৮)। অর্থাৎ একটি নির্ধারিত কাল পর্যন্ত এভাবে চলবে (৬ঃ২)। একটি জীবকে আকৃতি দান করা হয় পরিশেষে তাকে উত্তম আকৃতি দান করা হয় (৪০ঃ৬৪) (৬৪ঃ৩)। অর্থাৎ ঐ জীবআত্মা মানব দেহ প্রাপ্ত হচ্ছে অতঃপর মৃত্যুর পর তাকে একই ভাবে পুনঃ জীবিত করা হচ্ছে (৬ঃ৩৬)। কারণ একটি জীবের পুনঃ জীবিত করণ প্রক্রিয়া ও একটি মানুষের পুনঃ জীবিত করণ প্রক্রিয়া একই রূপ (৩১ঃ২৮)। আর সমস্ত জীবআত্মা একই সময়ে তৈরী করা হয়েছে (৩২ঃ৪)। সৃষ্টির প্রক্রিয়াগতভাবে একটি জীবআত্মা মানব আকৃতি প্রাপ্ত হচ্ছে, ঠিক তদ্রুপভাবে একটি মানব আবার কর্মদোষে সে জীব আকৃতি প্রাপ্ত হচ্ছে (৫ঃ৬০)। আর এটা এই জন্য সম্ভব হচ্ছে যে, একটি জীবের সৃষ্টি ও একটি মানুষের সৃষ্টি প্রক্রিয়া একই রকম (৩১ঃ২৮) এই ভাবে একটি জীবআত্মা জন্ম-মৃত্যুর মাধ্যমে জন্ম-জন্মান্তরে চলমান থেকে নিম্ন থেকে উন্নত আকৃতির দিকে চলবে আবার মানব আকৃতি প্রাপ্তির পরে কর্মদোষে সে নিম্ন আকৃতি প্রাপ্ত হবে এই মর্মে আল্লাহ বলেন “তোমাকে উত্তম আকৃতি দান করি (৯৫ঃ৪) আবার নিম্নস্তরে নামাইয়া দেওয়া হবে (৯৫ঃ৫)। এইভাবে চলবে রোজ কিয়ামত পর্যন্ত। একটি মানুষকে হাশরের দিন প্রভুর সম্মুখীন হতে হবে (২২ঃ৭)। তখন সকল জীবই প্রভুর কাছে একত্রিত হবে (৬ঃ৩৮)। আকাশ ও পৃথিবী তৈয়ার করার সময় এই দুইয়ের মধ্যস্থিত সমুদয় কিছুই তৈয়ার করা হয়েছে (৩২ঃ৪)। এই আয়াত অনুসারে জীব জগতও তখনই তৈয়ার করা হয়েছে। আর ঠিক তখনই মানুষও তৈরি করা হয়েছে এটাও নিশ্চিত। একটি জীব যখন পানি দ্বারা তৈরি করা হয়েছে (২৪ঃ৪৫) আবার একটি মানুষকেও পানি দ্বারা তৈরি করা হয়েছে। (২৫ঃ৫৪)। ঠিক একটি মানুষের যেমন আল্লাহ বুদ্ধি দিয়েছে, ঠিক একটি জীবকে তথা পশু-পাখিকেও বুদ্ধি দিয়েছেন (২৭ঃ২২)। মানুষের যেমন ভাষা আছে, তেমনই জীবেরও ভাষা আছে মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য (২৭ঃ১৬)। আবার বনি আদমের বংশধরকে সৃষ্টি করে আকৃতি দান করে (৭ঃ১১)। অতঃপর তাদের কাছথেকে স্বীকারউক্তি নিয়েছিল (৭ঃ১৭২) আর সেই স্বীকারোক্তি নেওয়ার পর থেকেই এই আত্মাগুলি জীব জগত হিসাবে পৃথিবীতে চলমান আছে। যেহেতু একটি জীবের সৃষ্টি প্রক্রিয়া ও মানুষের সৃষ্টি প্রক্রিয়া একই রকম (৩১ঃ২৮)। আর তাই বলা যায় যে, এক একটি মানুষ এক একটি জীব থেকে তৈরি করা হয়েছে (৬ঃ৯৮) (৭ঃ১৮৯) (৩৯ঃ৬)। অর্থাৎ মানবআত্মার আদি অবস্থান ছিল জীবআত্মা। যেখানে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছিল। জীবআত্মা তথা মানবাত্মাগুলিকে প্রথমে পানি দিয়ে সৃষ্টি করে কতককে বুকে ভর দিয়ে চলার আকৃতি দান করে, আবার কতককে দুই পায়ে চলার আকৃতি দান করে, আবার কতককে চার পায়ে চলার আকৃতি দান করে (২৪ঃ৪৫)। এইভাবে দীর্ঘকাল অতিবাহিত হয় (৬ঃ৯৮)। অতঃপর এই আত্মাগুলি উত্তম আকৃতি তথা মানব আকৃতি প্রাপ্ত হয়। আর তখনই তাদের পরিচয় হয় মানব বলে। তার আগে তারা জীব আত্মা বা জীবজগত হিসেবে পরিচিত ছিল। আসলে ভূ-পৃষ্ঠের সকল জীবই মানব আত্মার সুপ্ত অবস্থা। এই মর্মে আল্লাহ বলেন, ‘ভূ-পৃষ্ঠে বিচরণশীল সকল জীবই মানুষের উপমা’ (৬ঃ৩৮)। আর তাই বলা যায় যে, এক একটি মানুষ এক একটি জীব থেকে তৈরি করা হয়েছে (৬ঃ৯৮) (৭ঃ১৮৯) (৩৯ঃ৬)। তাহলে দেখা যায় জীবআত্মা জন্ম জন্মান্তরে দীর্ঘ কষ্টের পরে মানব আকৃতি প্রাপ্ত হয়। এই মর্মে আল্লাহ বলেন ‘মানুষকে অতি কষ্টের মাধ্যমে'তৈরি করা হয়েছে’ (৯০ঃ৪) আর একটি জীবআত্মা যখন মানব আকৃতি প্রাপ্ত হয়, তখন তার দেহ মানব আকৃতি হলেও কিন্তু তার স্বভাব থাকে জীবের মতই (৭ঃ১৭৯) (৮ঃ২২)। আর তাই আল্লাহ এদের কাছে রসূল পাঠায় এদের সংশোধন করার জন্য (৭ঃ৩৫)। যেন তারা রসূলের মাধ্যমে নিজেকে পবিত্র করতে পারে (২ঃ১৫১)। তখন যারা ঈমান আনে এবং সৎ কর্ম করে তখন তারা উন্নত জীবন লাভ করে, ফলে ওদের মৃত্যুর পর পুনঃ জীবিত করে মানুষের মাঝে চলার জন্য তাদের জ্ঞানের আলো দান করা হয় (৬ঃ১২২)। তখন তাদের পূর্বের আকৃতির স্থলে তাদের পূর্বের আকৃতি সাদৃশ্য আকৃতিতে সৃষ্টি করা হয় (৫৬ঃ৬১)। অর্থাৎ তারা পূর্বের ন্যায় মানব আকৃতিই প্রাপ্ত হয় কিন্ত অন্য চেহারায়। এইভাবে তাদের কর্ম অনুযায়ী তাদেরকে মর্যাদা দান করা হয় (৪৬ঃ১৯)। এইভাবে তাদেরকে উত্তম আকৃতি দান করা হয় (৯৫ঃ৪) আর যারা মানব আকৃতি পাওয়ার পরও রসূলকে বিশ্বাস করল না। ফলে উহাদের প্রতি লানত হল, এবং আল্লাহ তাদের প্রতি ক্রোধাম্বিত হইল, ফলে উহাদেরকে বানর ও শুকর করা হবে (৫ঃ৬০) (২ঃ৬৫) (৭ঃ১৬৬)। তাহলে দেখা গেল হারাম কর্ম করার ফলে একজনকে মানব স্তর থেকে নিম্ন স্তরে অর্থাৎ বানর ও শুকর স্তরে নামাইয়া দেওয়া হয়। আবার একটি জীব মানব স্তর লাভ করতে পারে এইজন্য যে, একটি জীবের সৃষ্টি প্রক্রিয়া একটি মানব সৃষ্টি প্রক্রিয়ারই অনুরূপ (৩১ঃ২৮)। একই ভাবে একটি জীব থেকে যখন একটি মানব তৈরি তখন একটি মানবাত্মা কর্মদোষে জীবদেহে যেতে পারে। এইজন্য যে, আল্লাহ আদিতে জীব সৃষ্টি করেন অতঃপর বার বার পুনরাবৃত্তি ঘটান এবং উহাদের আকাশ ও পৃথিবী থেকে জীবন উপকরণ দান করেন (২৭ঃ৬৪)। কারণ যারা প্রথম বার ঈমান অর্জন করে নাই, পুনরায় তাদের অবস্থার পরিবর্তন করিয়া পুনর্বার পূর্ব অবস্থানে ফিরিয়ে দিবে (৬ঃ১১০)। অর্থাৎ প্রথম বারের মত তাকে সৃষ্টি করে ফিরিয়ে আনা হবে (৭ঃ২৯)। গধশরহম ুড়ঁৎ ফবাড়ঃরড়হ ংরহপবৎব ংঁপয ধং যব পৎবধঃবফ ুড়ঁ রহ ঃযব নবমরহহরহম ংড় ংযধষষ ুড়ঁ ৎবঃঁৎহ(ঞৎধহংষধঃব ঃড় ঊহমষরংয ঞযব ঐড়ষষু ছঁৎধহ নু আবদুল্লাহ ইউসুফ আলী (ভারত)। আর এইগুলি আল্লাহর জন্য সহজ এই জন্য যে, তিনি যখন যথাবিধি কিছু সৃষ্টিকালে হও বলে আর তখনই উহা হইয়া যায় (৬ঃ৭৩)। আর এটা সত্য যে, তিনি মৃত্যু ঘটান আর মৃত্যকে জীবিত করেন (৬ঃ৯৫)। তিনি ত মৃত কে জীবিত কালে লিখিয়া রাখেন যাহা উহার অগ্রে প্রেরণ করে এবং যাহা উহার পশ্চাতে রাখিয়া যায় (৩৬ঃ১২)। এইভাবে তাকে দুই বার পারিশ্রমিক প্রদান করা হয় যাতে সে ধৈর্য্য ও ভাল কর্মের দ্বারা তার মন্দ কর্মকে মোকাবেলা করতে পারে (২৮ঃ৫৪)। এই লক্ষে জীবন থেকে মৃত্যু আর মৃত্যু থেকে জীবিত আবার মৃত্যু ঘটাবেন, আবার পুনরায় জীবন্ত করিবেন, পরিশেষে প্রভুর দিকে ফিরিয়ে আনা হবে (২ঃ২৮)। এইভাবে দুই বার বা ততোধিক বার মৃত্যু ততোধিক বার জীবন দেওয়া হবে (৪০ঃ১১)। এইভাবে তিনি প্রথমে সৃষ্টিকে অস্থিত্বে আনেন পরি পুনরাবর্তন ঘটান (১০ঃ৪) (৮৫ঃ১৩)। এইভাবে আল্লাহ আদিতে সৃষ্টির সূচনা করেন, অতঃপর তিনি উহার পুনরাবৃত্তি ঘটান, অতঃপর তাকে প্রভুর নিকট প্রত্যানিত করেন (৩০ঃ১১)। আর জন্ম মৃত্যুর এই পদ্ধতির বাইরে যাওয়া কারো কোন সুযোগ নেই (৬ঃ৯৫)। আর এই সকল আল্লাহর জন্য খুবই সহজ (৩০ঃ২৭)। তাহলে দেখা গেল সকল জীবআত্মাই মানবাত্মা এতে কোন সন্দেহ নেই। আর তাই পৃথিবী সৃষ্টির প্রাক্কালে বনি আদমের পরবর্র্তী বংশধর তথা জীবআত্মাগুলিকে সৃষ্টি করে তাদের কাছ থেকে স্বীকারোক্তি নিয়েছিল (৭ঃ১৭২)। আর তাই সেই থেকেই জীবআত্মা তথা মানব আত্মাগুলি জন্ম-জন্তান্তরে দেহ থেকে দেহান্তরে চলমান থাকিয়া বর্তমান মানব জনম পর্যন্ত আসিয়াছে বিধায় এটা নিঃসন্দেহে সত্য যে, জন্মের পূর্বে মানুষ কোন না কোন জীবদেহে ছিল যেটাকে বর্তমান জনম থেকে আড়াল করা হয়েছে। (২৩ঃ১০০)। এই আয়াতে বরযখ শব্দ এসেছে, তার অর্থ আড়াল বা প্রতিবন্ধকতা। (আঃ অভিঃ পৃ. নং-৬৭১) এখানে উল্লেখ্য যে, জীব জগতটা সমস্তই মানব আত্মার বিচরণ এই জন্য যে, হায়ান এর আত্মা বলে কোন আত্মা তৈয়ার করা হয় নাই। কারণ হায়ান শব্দের অর্থ হচ্ছে জানোয়ার বা জন্তু (আরবী অভিধান পৃ. নং-১২২৬) সেক্ষেত্রে কোরআনে যখন হায়ানের আত্মা সৃষ্টি সম্পর্কে কোন আয়াত নেই, তাহলে সকল জীবআত্মাই মানবাত্মা এতে কোন সন্দেহ নেই। আর তাই বলা যায় যে, মানুষ জন্মের আগে অন্য কোন না কোন মানব দেহে বা অন্য কোন জীব দেহে ছিল, আর তাই বনি আদমদের পরবর্তী সন্তানদের স্বীকারোক্তি নেওয়ার পর থেকে সেই আত্মাগুলি জীব জগত হিসেবে বিচরণ করে আসছে। পরিশেষে মানব দেহে এসে প্রকাশ হচ্ছে মানব রূপে। আবার কর্মদোষে কেহবা নিন্মগামী হচ্ছে বা জীবজগতে চলে যাচ্ছে। এই মর্মে আল্লাহ বলেন, মানবকে উক্তম আকৃতি দান করি (৯৫ঃ৪) আবার তাকে নিম্নস্তরে বা হীনতাগ্রস্থদের হীনতায় পরিণত করি (৯৫ঃ৫)। এই আয়াতে প্রমাণ হয় উত্তম ও অধম সবই মানব আত্মা। যার ফলে কর্মদোষে কেউ বা অন্ধ কেউবা বোবা, কেউবা ন্যাংড়া, কেউবা অপূর্ণাঙ্গ, কেউবা হত দরিদ্র, কেউবা পূর্ণাঙ্গ, কেউবা ধনী, কেউবা অসুখী, কেউবা সুখী এই সবই হচ্ছে তার পূর্ব জনমের কর্মের ফলে। কারণ পৃথিবীতে মানুষের যত অকল্যাণ হয় তা তার নিজ কর্মদোষে হয়ে থাকে (৪ঃ৭৯)। কারণ আল্লাহ কাহারো উপর জুলুম করেন না (১৮ঃ৪৯) (১৬ঃ৩৩)্। অনেকে প্রশ্ন করতে পারে যে, মাটি দিয়ে মানুষকে তৈরি করা হয়েছে (৩৮ঃ৭১) কিন্তু জীব আত্মাকে পানি দিয়ে তৈরী করা হয়েছে (২৪ঃ৪৫)। মাটি দিয়ে মানুষের দেহ তৈরী করা হয়েছে, কিন্তু আত্মাতো মাটি দিয়ে তৈরি নহে, কারণ সকল আত্মাই একই উপাদানে তৈরী, সেটা হচ্ছে পানি (২৪ঃ৪৫)। আর তাই বলা হয়েছে মানুষকে পানি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে (২৫ঃ৫৪)। মানব দেহ তৈরি সূত্রপাত মাটি দিয়ে, পরিশেষে কিন্ত তা তরল পদার্থের নির্যাস থেকে তৈরির কথা বলা হয়েছে (৩২ঃ৮)। এখানে উল্লেখ্য যে, আল্লাহ সৃষ্টি জগতে তিনটি সম্প্রদায়ে সৃষ্টি করেছে। ফেরেস্তা, জ্বীন ও জীবআত্মা তথা মানবাত্মা। ফেরেস্তার আত্মা নূর থেকে, আর জ্বীনদের আত্মা আগুন থেকে তৈরী (৭ঃ১২) আর জীব আত্মা পানি দিয়ে তৈরী (২৪ঃ৪৫)্ জীবআত্মা তথা মানবাত্মা পানি দিয়ে তৈরী (২৫ঃ৫৪)। তবে এই জীবআত্মা বা মানবআত্মাই হচ্ছে একটি জাতি বা সম্প্রদায়। কিন্তু এর অনেকগুলি প্রজাতি আছে, যেমন আনআম (গরু, ছাগল, মহিষ, হরিণ ইত্যাদি) একটি প্রজাতি, বানর শুকর এরাও প্রজাতি, বিহঙ্গকুল যাহা উড্ডীয়মান এরাও একটি প্রজাতি, তবে সবাই জীবআত্মা, এদের সবারই শেষ বা চূড়ান্ত বিকাশ হচ্ছে মানব রূপে। আর তাই সকল জীবআত্মাকে প্রভুর দিকে একত্রিত করা হবে (৬ঃ৩৮) (৩৮ঃ১৯)। অর্থাৎ আকাশ মন্ডলী ও পৃথিবীতে এমন কেহ নেই যে, দয়াময়ের নিকট বান্দারূপে বা তথা মানব রূপে উপস্থিত হবে না (১৯ঃ৯৩)। আর এই জন্য প্রত্যেক জীবকেই তার ইবাদত পদ্ধতি দেওয়া হয়েছে (২৪ঃ৪১)। শেষ বিচারের পরে সকল জীবআত্মা মানব রূপে স্তানান্তারিত হবে বিধায় বলা হয়েছে, জ্বীন ও মানবকে দিয়েই আমি জাহান্নাম পূর্ণ করিব (৩২ঃ১৩)। এখানে কিন্তু অন্যান্য জীবের কথা বলা হয় নাই, কারণ অন্যান্য জীবগুলি মানবরূপে স্থানান্তরিত হয়েছে। এই জন্য বলা হয়েছে, আমি জ্বীন ও মানুষের মধ্য থেকে রসূল পাঠিয়েছি (৬ঃ১৩০) এবং অধিকাংশ জ্বীন ও মানবকেই জাহান্নামে দেওয়া হচ্ছে (৭ঃ১৭৯)। এখানে কিন্তু জীবআত্মাদের আলাদা ভাবে দেখানো হয় নাই। এতে প্রমাণিত হয় যে, সেদিন সকল জীবআত্মাই মানব দেহে স্থানান্তরিত করেই তাদের শাস্তিতে আনা হচ্ছে। এখানে উল্লেখ্য যে, সমস্ত আত্মাই একই সময়ে তৈরী (৩২ঃ৪) এবং এই সকল কিছু সৃষ্টি করা হয়েছে নির্দিষ্ট পরিমাণে (৫৪ঃ৪৯)। আর সকল কিছু একই সময়ে ধ্বংশ হবে (২৮ঃ৮৮)। এই দুইয়ের মাঝখানে কোন ধ্বংশ নেই, রূপান্তর হচ্ছে মাত্র। তাই বস্তুর অবিনাশিতাবাদ সূত্রে বিজ্ঞান এটাই প্রমাণ করেছে যে, বস্তুর কোন ধ্বংশ নেই, রূপান্তর হয় মাত্র। আর তাই জীবআত্মা ধ্বংশ হচ্ছে না, বরং মৃত্যুর মাধ্যমে এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তর হচ্ছে মাত্র। তাই বলা হয়েছে প্রত্যেক জীবের মৃত্যু হবে (২৯ঃ৫৭) (২১ঃ৩৫)। এই সকল আয়াতে কিন্তু ধ্বংশ শব্দ আসে নাই। কারণ ধ্বংশ শব্দের আরবী হচ্ছে হালীকু (আরবী অভিধান পৃ. নং-২৬৩৩) যাহা সূরা কাছাস ৮৮ নং আয়াতে এসেছে, হালীকু অর্থ ধ্বংশ। আর মৃত্যু শব্দের অর্থ হচ্ছে জীবআত্মা থেকে পরমাত্মা তথা রূহুকে বিচ্ছিন্ন করা। যেমন নিদ্রাটাও এক ধরনের মৃত্যু। যখন জীবআত্মা থেকে রূহুকে বিচ্ছিন্ন করা হয় (৩৯ঃ৪২)। আর এখানে নিদ্রার সময় জীবআত্মাটাকে দেহ থেকে বাহির করা হয় আর রূহু দেহের ভিতরে অবস্থান করে (ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আল-কুরআনুল কারীম টিকা নং-১৫০১) আর তাই মানব দেহ সৃষ্টির পূর্বেই মানব আত্মা তৈরি করা হয়েছে (৩২ঃ৪)। আর সেইগুলি জীবআত্মা হিসাবে বিভিন্ন প্রজাতিতে বিভক্ত করে পৃথিবীতে বিচরণশীল রাখা হয়েছে। আর যখন কোন প্রজাতি তৈরির ইচ্ছা করেন আর তখনই আল্লাহ শুধু তার দেহটা মাটি অথবা পানি দিয়ে তৈরি করে তাতে জীবআত্মা তথা মানব আত্মাকে সংযোজন করে অতঃপর নিজ রুহু ফুৎকার করে প্রজাতির প্রবর্তন করেছে। সেই দৃষ্টিতে প্রতীয়মান হয় যে, সমস্ত বনি আদম সন্তানকে একই সময়ে সৃষ্টি করে তাদের কাছ থেকে স্বীকারোক্তি নিল, এবং সবাই স্বীকার করল যে, আপনি আমাদের প্রভু (৭ঃ১৭২) আর সেই থেকে এরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়ে পরে মানব দেহ প্রাপ্ত হচ্ছে। উপরোক্ত আলোচনায় সেটাই কোরআন থেকে প্রমাণিত হয়েছে। আর এই কোরআনে দ্বীনের বিষয়ে কোন দর্শন বাদ দেওয়া হয় নাই (৬ঃ৩৮)। আল্লাহত মানুষের জন্য এই কোরআনে সর্ব প্রকার দৃষ্টান্ত দিয়েছেন (৩০ঃ৫৮)। আর নবী (সঃ) কে তো এই কোরআনের ভিতর সীমাবদ্ধ থাকতে বলা হয়েছে (৬ঃ৫০)। এই জন্য নবী (সঃ) এর জন্য বিধান স্বরূপ এই কোরআনই (২৮ঃ৮৫)। এই জন্য বলা হয়েছে, এই কোরআন মোতাবেক যারা বিধান দেয় না তারা য়ালিম, ফাসেক ও কাফির (৫ঃ৪৪) (৫ঃ৪৫) (৫ঃ৪৭)। কবর সম্পর্কে এক শ্রেণীর মানুষের ধর্মীয় দর্শনে বলে, কবরে তিনটি প্রশ্ন করে ঈমান পরীক্ষা করা হবে এ কথাটি ঠিক নহে বরং রোজ কিয়ামতের দিন ২য় সিংগায় ফুতকার দেওয়ার পর দেহে আত্মা সংযোজন করা হবে (৮১ঃ৭)। এতে প্রমাণ হয় কবরে জীবিত করে তিনটি প্রশ্ন করে ঈমান পরীক্ষা করা হবে এই কথার কোন ভিত্তি নেই। তারপরও অনেকেই হাদীসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলে কবরে তিনটি প্রশ্ন করা হবে ঃ (ক) তোমার প্রভূ কে? (খ) তোমার দ্বীন কী? (গ) নবী (সঃ) কে দেখিয়ে জিজ্ঞাসা করা হবে, এই ব্যক্তি কে? কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে, এই তিনটি প্রশ্ন করে কবরে ঈমান পরীক্ষা করা হবে মর্মে কোন আয়াত পবিত্র কুরআনে নেই। এখানে উল্লেখ্য যে, মৃত্যুর পরের জগতটা গায়েব জগত। আর গায়েব জগতের খবর একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেনা। (সূরা নামল ৬৫) আর নবী (সঃ) ও গায়েব জানেন না। (৬ঃ৫০) (৭ঃ১৮৮)। আর নবী (সঃ) ওহী ব্যতিত কাউকে সতর্ক করেন নাই। (আম্বিয়া ৪৫)। আর নবী (সঃ) এর প্রতি নাযিলকৃত সকল ওহী এই কুরআনের মধ্যে এবং পবিত্র এই কুরআনের মধ্যে ওহী ব্যতীত কোন কথা নেই। আর নবী (সা.)কে এই কোরানই অনুসরণ করতে বলা হয়েছে (৬ঃ৫০)। আর নবী (সা.)-এর জন্য এই কোরানই বিধান হিসেবে নির্দিষ্ট করা হয়েছে (২৮ঃ৮৫)। যেহেতু কবরে উক্ত তিনটি প্রশ্নের মাধ্যমে মানুষের ঈমান করার মাধ্যমে কবরে শাস্তি দেওয়া হবে মর্মে পবিত্র কুরআনে কোন আয়াত নাই বিধায় কবর সম্পর্কে তাদের এহেন ধর্মবোধ ভি্িত্তহীন। যারা কবরের বিষয়ে পবিত্র কুরআন মোতাবেক বিধান দেয় না। আর যারা দ্বীন সম্পর্কে পবিত্র কুরআন মোতাবেক বিধান দেয়না উহারা জালিম, ফাসেক ও কাফের (৫ঃ৪৪) (৫ঃ৪৫) (৫ঃ৪৭)। বিধায় তাদের ধর্মীয় দর্শন কুরআন পরিপন্থী। এখানে উল্লেখ্য যে, কবরের আযাব সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে কোন আয়াতে উল্লেখ নেই। বরং উল্লেখ আসছে, ২য় শিংগায় ফুৎকার দেওয়ার পর যখন কবর থেকে উঠে প্রভুর দিকে যাবে তখন তারা বলবে, কে আমাদেরকে নিদ্রাস্থল থেকে উঠাইল (৩৬ঃ৫১) (৩৬ঃ৫২)। যেমনভাবে নিভৃত ছিল গুহায় কাহফ ও তার সঙ্গীরা (১৮ঃ১১) (১৮ঃ২০)। ঠিক কবরও একটি নিক্রিয়, নির্জীব, ঘুমন্ত অবস্থার মত। এতে প্রমাণ হয় যে, কবরে কোন আযাব হচ্ছেনা, যদি কবরে আযাব হতো তাহলে তারা বলত আমাদেরকে আযাব থেকে কে উঠাইল? তারপরও যদি কেহ বলে সকল অপরাধীদের জন্য কবরে আযাব হবে, তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি, ধরুন প্রথম সিংগায় ফুৎকার দেওয়ার পর একজন ব্যক্তির মৃত্যু হইল (সূরা জুমারÑ৬৮) তার পর দ্বিতীয় সিংগায় ফুৎকার দেওয়ার আগ পর্যন্ত নির্জীব কবরস্থ রহিল। দ্বিতীয় সিংগায় ফুৎকার দেওয়ার পর সে দন্ডায়মান হইল (সূরা জুমারÑ৬৮) এবং কবর থেকে উঠে সকলে প্রভুর দিকে দৌড়াতে থাকিবে (ইয়াছিন-৫১) তার পর শেষ বিচার শুরু হবে। এই বর্ণনা মোতাবেক রোজ কেয়ামতের পূর্ব মুহুর্তে যারা মারা গেল তাদের ত কবরে কোন আযাবের বর্ণনা আসেনি। সূরা জুমারÑ৬৮ নং আয়াত অনুসারে ১ম সিংগায় ফুৎকার দেওয়া এবং ২য় সিংগায় ফুৎকার দেওয়ার পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত এই সময়টা নির্জীব কবর এখানে কোন আযাব নেই। কারণ নির্জীব অবস্থায় আযাব এবং শান্তি কোনটাই সম্ভব নহে। এতে প্রমাণ হয় কবরে কোন আযাব নেই। ১ম সৃষ্টির পর হইতে ১ম সিংগায় ফুৎকার দেওয়ার পূর্ব পর্যন্ত যত মৃত্যু হবে সেই মৃত্যুর পরে পুনরুজ্জীবিত করে প্রভুর কাছে নিয়ে যাওয়া হবে। (৬ঃ৩৬)। তখন তার সম্মুখ থেকে সকল পর্দা উন্মোচিত করা হবে এবং তার দৃষ্টি প্রখর করা হবে (সূরা-কাফ, আয়াত-২২)্ তখন প্রভুর দিকে সে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকবে (সূরা কিয়াম, আয়াত-২৩)। সেদিন কাফিররাও স্পষ্টবাবে আল্লাহকে দেখতে পাবে। (১৯ঃ৩৮)। তখন বলা হবে মৃত্যুর পূর্বে তোমরা যা কিছু কামনা করতে আজ সব দেখলেতো? (৩ঃ১৪৩) তখন তারা বলবে আমরা সব দেখলাম এবং শুনলাম এবং প্রভুকে বিশ্বাসও করলাম (৩২ঃ১২)। তখন বলা হবে তোমাদের আজকের বিশ্বাস কবুল করা হবে না (৩২ঃ২৯)। তবে যারা পূর্ব থেকে বিশ্বাসী ছিল তাদের বিশ্বাস কবুল করা হবে (৬ঃ১৫৮)। তখন তারা আত্মপক্ষ সমর্থনে যুক্তি প্রদর্শন করবে। (নহল-১১১)। এবং বলবে হে প্রভু আমরাতো পূর্ব থেকেই বিশ্বাসী ছিলাম (৩২ঃ১২)। তখন বলা হবে, তোমরা বিশ্বাসী ছিলে বললেই তোমাদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে না ইমান পরীক্ষা না করে। (আনকাবুত-২)। শুধু ইমান পরীক্ষা করা হবে না, বরং ইমান অনুসারে পূর্ব কর্ম পরীক্ষা করা হবে (১০ঃ৩০)। আর এমন একটি কঠিন পরীক্ষা করা হবে, যে পরীক্ষায় কারা প্রকৃতপক্ষে ইবলিসের অনুসারী ছিল, তারা ধরা পড়বে। (৬৮ঃ৬) সেই পরীক্ষাটি হবে এমন একটি কঠিন পরীক্ষা যে সেথায় শুধু যালিমরাই আক্রান্ত হবে না বরং নামধারী, লেবাসধারী মমিনরাও আক্রান্ত হবে। (৮ঃ২৫)। আর সেই পরীক্ষাটা হবে এই ভাবে যে, আল্লাহ পাক মানব আকৃতিতে উপস্থিত হবেন এবং সাক্ষাত দিবেন। "তখন আল্লাহর পা উন্মোচন করা হবে এবং সেজদা দিতে বলা হবে। তারা সক্ষম হবে না" (কালাম-৪২)। কারণ তারা দুনিয়াতে তাদেরকে এই সেজদা করতে আহবান করা হয়েছিল, তারা করে নাই (কালাম-৪৩)। এইভাবে সেখানে তার ঈমান পরীক্ষা করা হবে। (২৯ঃ২)। কর্মফল অনুসারে তার প্রতিদান প্রদান করা হবে। (সূরা হুদ-১১১)। এইলক্ষে তাকে পুনরায় সৃষ্টিতে ফিরিয়ে আনা হবে। ১ম বার যেভাবে সৃষ্টি করা হয়েছিল। অর্থাৎ যেভাবে প্রথমে সৃষ্টি করিয়াছেন তোমরা সেইভাবে ফিরিয়া আসিবে (৭ঃ২৯)। গধশরহম ুড়ঁৎ ফবাড়ঃরড়হ ংরহপবৎব ংঁপয ধং যব পৎবধঃবফ ুড়ঁ রহ ঃযব নবমরহহরহম ংড় ংযধষষ ুড়ঁ ৎবঃঁৎহ (ঞৎধহংষধঃব ঃড় ঊহমষরংয ঃযব ঐড়ষষু ছঁৎধহ নু অঁনঁষষধয ণড়ঁংঁভ অষর, ওহফরধ). (৭ঃ২৯)। এইভাবে জীব জগত পর্যায়ক্রমে আবর্তনের মাধ্যমে সৃষ্টিতে এনে পুনরাবর্তন ঘটানো হচ্ছে। (সূরা ইউনুস-৪) (২৭ঃ৬৪) (৮৫ঃ১৩)। এই ভাবে জন্ম-মৃত্যু-কবরস্থ-পুনরুজ্জীবিত-প্রভুর কাছে প্রত্যানিত-পরে ইমান পরীক্ষার পরে পুনরাবর্তন (৮৫ঃ১৩)। এইভাবে চলবে রোজ কিয়ামত পর্যন্ত। অর্থাৎ এই জনমে যে কর্ম মানুষ করছে, পরবর্তী জনমে তা ভোগ করছে। কারণ মানুষের যত অকল্যাণ হয় তা তার নিজ কর্মের কারণে (৪ঃ৭৯)। এইভাবে জন্ম জন্মান্তরে মানুষ শাস্তি বা শান্তির মাধ্যমে পরে মহাশাস্তি/শান্তির দিকে ধাবিত হচ্ছে। এই মর্মে আল্লাহ বলেন, তোমাকে দুইবার শাস্তি দিব পরে মহাশাস্তির দিকে (৯ঃ১০১)। আবার তোমাকে দুইবার মৃত্যু এবং দুইবার জীবন দান করা হবে।(৪০ঃ১১, ২ঃ২৮)। অর্থাৎ কমপক্ষে দুই বার মৃত্যু দুইবার জীবন। (সুরা মমিন-১১)। ১ম মৃত্যুর পর নতুনভাবে সৃষ্টি করা হবে। (সুরা নং-৩৪ সাবা, আয়াত নং-৭)। এবং পুনরায় সৃষ্টি করা হবে ১ম বারের মত। (সুরা আরাফ-২৯)। কমপক্ষে দুইবার পারিশ্রমিক প্রদান করা হবে। (সুরা কাসাস-৫৪)। এইজন্য সৃষ্টিতে এনে পুনরাবর্তন ঘটানো হবে। (সুরা ইউনুস-৪) (৮৬ঃ১৩)। আল্লাহ সৃষ্টিকে অস্থিত্ব দান করেন অতঃপর পুনরায় সৃষ্টি করেন (২৯ঃ১৯) (৩০ঃ২৭)। এখানে উল্লেখ্য যে, প্রত্যেক নফসের মৃত্যু হবে (সূরা আনকাবুত-৫৭)। আর এই কারণে পৃথিবীর কোন কিছুই নিরর্থক সৃষ্টি করে নাই (৩৮ঃ২৭)। মৃত্যুর পূর্বে জীবন ছিল এটা নিশ্চিত। অর্থাৎ আগে জীবন পরে মৃত্যু। সেক্ষেত্রে সুরা বাকারার ২৮ নং আয়াতের বিষয়টি মৃত্যু থেকে জীবিত কথা দিয়ে প্রমাণ হয় আগে জীবন ছিল। সুরা বাকারার ২৮ নং আয়াতটির বর্ণনায় এমন হয় যে, (জীবন থেকে) মৃত্যু পরে জীবিত আবার মৃত্যু আবার জীবিত এবং পরিশেষে প্রভুর কাছে প্রত্যাবর্তন। এখানে উল্লেখ্য যে দুইবার কথার মধ্যে একাধিকবার কথাটা এসে যায়, সেক্ষেত্রে জন্ম জন্মান্তরে একাধিকবার জন্ম মৃত্যুর মাধ্যমে রোজ কিয়ামতের পূর্ব মুহুর্তে ১ম সিংগায় ফুৎকার দেওয়ার পরে মৃত্যু। এই যুক্তি অনুসারে সূরা জুমার ৬৮ নং আয়াতে মৃত্যুর পূর্বে আর একটি মৃত্যু ছিল। জন্মান্তর বাদে বিশ্বাসী না হলে সূরা জুমার ৬৮ নং আয়াতে উল্লেখিত ১ম সিংগায় ফুক দেওয়ার মৃত্যুর পরে ২য় সিংগায় ফুৎকার দেওয়ার পর জীবিত হয়ে প্রভুর কাছে দন্ডায়মান এই যুক্তিতে দুইবার মৃত্যু প্রমাণিত হয় না। যদি কেহ জন্মান্তরবাদে বিশ্বাসী না হয় সেক্ষেত্রে সূরা মমিনের ১১ আয়াতে দুইবার মৃত্যু কথাটির সাথে সুরা জুমার ৬৮ নং আয়াতটি পরস্পর বিরোধী হয়। যেহেতু কুরআনের কোন আয়াত পরস্পর বিরোধী নয় বিধায় সেহেতু ১ম সিংগায় ফুৎকার দেওয়ার পুর্বে বার বার জন্ম-জন্মান্তরবাদ এটা নিশ্চিত। কারণ ১ম সিংগায় ফুৎকার দেওয়ার পুর্বে যাদের মৃত্যু হবে কাফেররা তখন বলবে, আমাদেরকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দাও (২৩ঃ৯৯)। তাদের উদ্দেশ্যে বলা হল 'ইহা হইবার নয়' বরং পরবর্তী পুনরুজ্জীবিত হওয়া পর্যন্ত তোমাদের সামনে বরযখ থাকবে। (২৩ঃ১০০)। এখানে উল্লেখ্য যে, ১ম সিংগায় ফুৎকার দেওয়ার পুর্বে মৃত্যুর পর ইমান পরীক্ষার পরে যদি কবরে রাখা হইত বা কবরে আত্মা ফেরত পাঠানো হইত তাহলে আয়াতে পুনরুজ্জীবিত হওয়া পর্যন্ত তোমাদের সামনে বরযখ থাকবে কথা না বলে তোমরা কবরে থাকবে কথা বলা হতো। যেহেতু উক্ত আয়াতে কবর কথা আসে নাইএতে প্রমান হয় যে, মৃত্যুর পর পুনরুজ্জীবিত করে প্রভুর কাছে নিয়ে ইমান পরীক্ষার পর তাকে আর কবরে পাঠানো হয় না। এখানে উল্লেখ্য যে, আল্লাহ সকল আত্মা একই সময় সৃষ্টি করে সকলের কাছ থেকে অঙ্গিকার নিলেন (আরাফ-১৭২)। ১ম সিংগায় ফুৎকার দেওয়া হবে (জুমার-৬৮)। তখন সকল কিছু একই সাথে ধ্বংস করা হবে (সুরা কাসাস-৮৮)। একই সময়ে ১ম সিংগায় ফুৎকার দেওয়ার মাধ্যমে সকলের মৃত্যু হবে (জুমার-৬৮)। তারপর সকলকে একই সাথে মৃত্যুর পর কবরস্থ করা হবে (৮০ঃ২১)। এখানে উল্লেখ যে কিয়ামতের পূর্বে কবর থেকে কাউকে জীবিত করা হচ্ছে না। একমাত্র ২য় সিংহে ফুতকার দিলেই করব থেকে দ-ায়মান হবে (৩৬ঃ৫১)। এতে প্রমাণ হয় যে কবর একটি নির্জীব অবস্থা কারণ তখন তারা বলবে আমাদেরকে নিদ্রাস্থল থেকে উঠাইল (৩৬ঃ৫২) এবং আল্লাহ যতদিন ইচ্ছা করবেন ততদিন তারা কবরস্থ থাকবে। (আবাসা-২১)। তারপর আল্লাহ ২য় সিংগায় ফুক দেবেন (জুমার-৬৮)। তারপর তাদের পূর্বের দেহে আত্মা সংযোজন করা হবে (তাকবীর-৭) (আবাসা-২২)। তারপর তারা কবর থেকে উঠে প্রভুর দিকে ধাবিত হবে হাশরের মাঠে (৩৬ঃ৫১)। তাহলে দেখা গেল ১ম সৃষ্টি থেকে শুরু করে ১ম সিংগায় ফুৎকার দেওয়ার মাধ্যমে সকল কিছু ধ্বংস হওয়া পর্যন্ত বার বার জন্ম মৃত্যুর মাধ্যমে রূপান্তর। এই পিরিয়ডটাই জন্মান্তরবাদ। অর্থাৎ ১ম সিংগায় ফুৎকার দেওয়ার পূর্বে যে সকল মৃত্যু হচ্ছে সেই মৃত্যুর পর দেহগুলি কবরস্থ করা হচ্ছে (৮০ঃ২১) (৯ঃ৮৪)। আর কবরে দেহগুলি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে কিন্তু আত্মাগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করে জতিষ্ময় দেহে অংঃৎড়ষ নড়ফু -তে প্রভুর কাছে প্রত্যানিত করা হবে (৬ঃ৩৬)। অতঃপর তাকে সেখানে ইমান পরীক্ষা করা হবে (২৯ঃ২)। এই লক্ষে তাকে পুনরায় সৃষ্টিতে ফিরিয়ে আনা হবে প্রথম বার যেভাবে সৃষ্টি করা হয়েছিল (৭ঃ২৯)। (১) এই লক্ষে তাকে নতুনভাবে দেহ তৈরী বা সৃষ্টি করা হবে (সাবা-৭)। তাকে নতুন আকৃতি দান করা হবে (ওয়াকিয়া-৬১) তবে এক জন্ম থেকে অন্য জনমের মধ্যে একটি অন্তরাল থাকে (মমিন-১০০)। যাতে করে সে পূর্ব জনমের কোন স্মৃতি স্মরণ করতে না পারে পরবর্তী নতুন জীবনে তাকে পূর্ব জীবনের কর্ম অনুসারে শাস্তি বা শান্তি দেওয়া হব্,ে আর পূর্ব জনমের মৃত দেহটা কবরে মাটির সাথে মিশে যাবে বা ধ্বংস হয়ে যাবে। সেখানে কোন জীব আত্মার উপস্থিতি থাকবে না। অর্থাৎ কবরে একটি নির্জীব অবস্থা, এখানে কোন আজাব বা শান্তি দেওয়া হয় না, বিধায় কবরে কোন আজাব নেই, এই মর্মে কোরানে কোন আয়াত আসে নাই। তবে পরবর্তী জনমে পূর্ব জনমের কর্ম অনুসারে শাস্তি বা আজাব দেওয়া হয়। যে কেহ হারাম ভক্ষণ করবে তাকে বানর বানানো হবে (২ঃ৬৫) (৭ঃ১৬৬)। যার উপর আল্লাহ লা'নত করবে এবং রাগান্বিত থাকবে তাকে বানর ও শুকর করবে (৫ঃ৬০)। অর্থাৎ ১ম সিংগায় ফুৎকার দেওয়া পর্যন্ত এইভাবে জন্ম মৃত্যুর মাধ্যমে জন্ম জন্মান্তরে জীব আত্মা প্রবাহমান থাকবে, অতঃপর ১ম সিংগায় ফুৎকার দেওয়ার মাধ্যমে সকল কিছু ধ্বসং হবে (২৮ঃ৮৮)। তখন সবাই নির্জীব কবরস্থ হবে (৮০ঃ২১)। এখানে কোন আজাব দেওয়া হবেনা। অতঃপর ২য় সিংগায় ফুৎকার দেওয়া হবে (৩৯ঃ৬৮)। অতঃপর পূর্বের দেহে আত্মা সংযোজন করা হবে (৮০ঃ২২) (৮১ঃ৭), অতঃপর তারা দন্ডায়মান হবে (৩৯ঃ৬৮)। অতঃপর কবর থেকে উঠে দৌড়াতে দৌড়াতে প্রভুর দিকে দৌড়াতে থাকবে (মাআরিজ-৪৩) (ইয়াসিন-৫১) পরে শেষ বিচারের মাধ্যমে দোযখ বা বেহেস্ত দেওয়া হবে (হুদ-১০৬)। (২) এখানে উল্লেখ্য যে, দুই বা একাধিকবার মৃত্যুর মাধ্যমে প্রভুর কাছে প্রত্যানীত হওয়ার ২য় যুক্তি হচ্ছে এই যে, সুরা আনামের ৩৬ নং আয়াতে বর্ণিত প্রভুর নিকট প্রত্যানিত হওয়ার সময় তাদের সম্মুখ থেকে সকল পর্দা উন্মোচন করা হবে এবং দৃষ্টি প্রখর করা হবে। (৫০ঃ২২)। তখন সকলেই অর্থাৎ কাফেররাও প্রভুকে স্পষ্টভাবে দেখতে পাবে। (১৯ঃ৩৮)। পক্ষান্তরে শেষ বিচারের দিন কাফেররা সেদিন প্রভুর থেকে অন্তরিত থাকবে (৮৩ঃ১৫)। এবং অপরাধীরা সেদিন দৃষ্টিহীন অবস্থায় উৎথিত হবে। (২০ঃ১০২) এবং কাফেররা সেদিন অন্ধ অবস্থায় উঠিবে। (২০ঃ১২৪)। (৩) আবার ১ম সিংগায় ফুৎকার দেওয়ার পুর্বে যারা মৃত্যুবরণ করবে তারা প্রভুর কাছে প্রত্যানিত করে ঈমান পরীক্ষা করতঃ প্রতিদান প্রদান করার লক্ষ্যে তাকে নতুন ভাবে সৃষ্টি করা হচ্ছে। (৩৪ঃ৭), (২১ঃ১০৪)। নতুন ভাবে সৃষ্টি করার কারণে পরবর্তী সৃষ্টি নতুন জনমে কেউ কাউকে চিনতে পারে না এবং ২য় সিংগায় ফুৎকার দেওয়ার পর পূর্বের দেহেই আত্মা সংযোজ করা হচ্ছে। (৮১ঃ৭)। ফলে তারা সেদিন একে অপরকে চিনতে পারবে (১০ঃ৪৫)। (৪) আবার দেখা যাচ্ছে, ১ম সিংগায় ফুক দেওয়ার পূর্বে যে সকল মানুষের মৃত্যু হচ্ছে তাদেরকে নতুন ভাবে সৃষ্টি করার সময় নতুন আকৃতিতে বা অন্য আকৃতিতে সৃষ্টি করা হচ্ছে। (ওয়াকিয়া-৬১)। তখন অপরাধীদেরকে শাস্তি দেওয়ার জন্য বানর কিংবা পশু আকৃতিতে তৈরী করা হবে। (২ঃ৬৫) (৭ঃ১৬৬) (৫ঃ৬০)। পক্ষান্তরে ২য় সিংগায় ফুক দেওয়া পর অপরাধীদেরকে পৃথক করা হবে (৩৬ঃ৫৯) (১০ঃ২৮) এবং তাদের আমলনামা বাম হাতে দেওয়া হবে। (৬৯ঃ২৫)। (৫) আবার দেখা যাচ্ছে ১ম সিংগায় ফুক দেওয়ার পূর্বে যাদের মৃত্যু হচ্ছে, তাদের ঈমান পরীক্ষা করার সময় সুপারিশকারী কেউ থাকছে না। কারণ ঐ সময় আল্লাহ ব্যতিত কোন সুপারিশকারী থাকবে না। (৩২ঃ৪)। পক্ষান্তরে ২য় সিংগায় ফুক দেওয়ার পরে যখন জীবিত হয়ে হাশর মাঠে উপস্থিত হবে, তখন আল্লাহ যাকে অনুমতি দিবে সে সুপারিশ করিতে পারিবেন (১০ঃ৩)। (৬) প্রথম সিংঙ্গায় ফুৎকার দেওয়ার আগে মৃত্যুর পর যখন প্রভুর নিকট দন্ডায়মান হবে তখন প্রত্যকেই একাকি প্রভুর সামনে যাবে (১৯ঃ৯৫)। পক্ষান্তরে হাশরের মাঠে সকলেই একসাথে প্রভুর সম্মুখে দন্ডায়মান হবে (১১ঃ১০৩)। (৭) প্রথম সিংগায় ফুৎকার দেওয়ার পূর্বে যে সকল মৃত্যু হবে অতঃপর আল্লাহর কাছে ্উপস্থিত হয়ে আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কথা বলতে পারবে এবং বলবে, হে প্রভু আমরা সব দেখলাম এবং শুনলাম এবং আমাকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দাও (সেজদা-১২) পক্ষান্তরে হাশরের মাঠে আল্লাহর অনুমতি ব্যতিত কেহ কথা বলতে পারবে না (১১ঃ১০৫) (৭৭ঃ৩৫) (মুরছালাত-৩৫। (৮) ১ম সিংগায় ফুক দেওয়া পূর্বে যারা আল্লাহর পথে হিযরতে গিয়ে নিহত হয় তাদের উৎকৃষ্ট জীব্কিা দেয়া হবে এবং তাদেরকে এমন স্থানে দাখিল করা হবে যা তারা পছন্দ করিবে। (২২ঃ৫৮) (২২ঃ৫৯)। অর্থাৎ নতুন ভাবে সৃষ্টি করে তাদেরকে পছন্দের মত স্থানে রাখা হবে পক্ষান্তরে ২য় সিংগায় ফুক দেওয়ার মাধ্যমে জীবিত করে হাশরের বিচারের পরে তাদের দাখিল করা হবে জান্নাতে। (৯) আবার ১ম সিংগায় ফুক দেওয়া পূর্বে মৃত্যুর পর দেহটা কবরস্থ হচ্ছে আত্মাটাকে পুনরুজ্জীবিত করে প্রভুর কাছে দন্ডায়মান করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে আত্মা কবরস্থ দেহে সংযোজন করা হচ্ছেনা, কারণ ২৩ নং সূরার ১৫ নং আয়াতে বলা হয়েছে, মৃত্যুর পরে সরাসরি পুনরুজ্জীবিত করে আত্মিক দেহে প্রভুর সম্মুখে দন্ডায়মান করা হচ্ছে। (২৩ঃ১৬) (৬ঃ৩৬)। এই আয়াতে কিন্তু মৃৃত্যুর পর কবর কথা উল্লেখ নাই। পক্ষান্তরে ১ম সিংগায় ফুক দেওয়া পরে মৃত্যুর পর কবরস্থ থাকছে (৮০ঃ২১)। অতঃপর ২য় সিংগায় ফুক দেওয়া পর কবরস্থ দেহে আত্মা সংযোজন করা হচ্ছে (৮১ঃ৭)। এতে প্রমাণিত হয় যে, প্রভুর সম্মুখে দুইবার বা একাধিক বার প্রত্যানিত হতে হচ্ছে। এতে প্রমাণিত হয় ১ম সৃষ্টি থেকে ১ম সিংগায় ফুক দেওয়া পর্যন্ত এটা হচ্ছে জন্ম মৃত্যুর মাধ্যমে জন্মান্তরবাদ। অতএব জন্মান্তর বাদ কুরআনের মতবাদ। (বিঃ দ্রঃ হাসিবুল হক চিশতীর পবিত্র কুরআন থেকে বিষয় ভিত্তিক আলোচনা গ্রন্থের ১ম খন্ডে জন্মান্তরবাদ অধ্যায়ে বিস্তারিত দেখুন।)
মানব জাতির জন্য আদিতে যে গৃহটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল উহা বাক্কায় অর্থাৎ মক্কায় অবস্থিত। (৩ঃ৯৬)। মানব কাবার সাদৃশ্যেই এই কাবাঘর নির্ধারণ করা হয়েছে। (২ঃ১২৫)। এই আয়াতে মাসাবাত শব্দ এসেছে, যার অর্থ পরস্পর সাদৃশ্য বস্তু (বাংলা একাডেমীর আরবী বাংলা অভিধান পৃঃ নং-২২৫০)। যখন ইব্রাহিম বলিয়াছিল হে প্রভু ইহাকে তুমি নিরাপদ শহর করিও এবং ইহার অধিবাসীদের মধ্য হইতে যারা আল্লাহ ও আখেরাতে ঈমান আনে তাদেরকে জীবিকা প্রদান করিও (২ঃ১২৬)। এখানে উল্লেখ্য যে, মুসলিমদের সকল আনুষ্ঠানিক ইবাদতগুলো এই কাবাঘর কেন্দ্রীক। এই জন্য আল্লাহ বলেন, মক্কা ও তার চর্তুপার্শের লোকদেরকে সতর্ক কর তারা যেন সালাত হেফাজত করে (৬ঃ৯২)। ঠিক একই ভাবে কুরবানীটাও মক্কা শহর কেন্দ্রীক। আদম (আঃ) এর দুই সন্তানের প্রতি কুরবানীর হুকুম হয়েছিল (মায়েদা ২৭)। এই আয়াতে কুরবানী শব্দ এসেছে। আর কুরবানী শব্দের অর্থ হচ্ছে যার সাহায্যে প্রভুর সান্নিধ্য লাভ হয়। (অভিধান পৃঃ নং- ১৯৩৪)। আর ইব্রাহিম (আঃ) ও এই কুরবানীর মাধ্যমেই মুক্ত হয়েছিল। (৩৭ঃ১০৭)। এই আয়াতে জবেহ শব্দ এসেছে। জবেহ অর্থ গলা কাটা। (আরবি বাংলা অভিধান পৃঃ নং-১৩২৩)। কারণ আদম (আঃ) ্ও ইব্রাহিম (আঃ) উভয়ই মক্কার অধিবাসী ছিলেন। বিধায় প্রমাণিত হয় যে, কুরবানীর বিশষটাও মক্কা শহর কেন্দ্রিক। তারপরও এই মর্মে আল্লাহ বলেন, তোমরা কুরবানী কর, প্রাচীন গৃহের সীমানার ভিতর।(২২ঃ৩৩)। প্রাচীন গৃহ বলতে কাবাঘরকে বুঝানো হয়েছে। এই আয়াতে মাহিলাহ শব্দ এসেছে, যার অর্থ হচ্ছে সমর্পিত করা (অভিধান পৃঃ নং-২২২৮) অর্থাৎ কুরবানীর স্থান হিসাবে প্রাচীন গৃহ কাবাঘরই একমাত্র ঠিকানা। আর তাই হজ্বের সাথে কুরবানীর সম্পর্ক। হজ্বের জন্য একমাত্র কাবাঘরই নির্দিষ্ট স্থান। (৩ঃ৯৭)। এইজন্য হজ্ব যখন, কুরবানীও তখন। আর তাই হজ্ব যেখানে, কুরবানীও সেখানে। এই মর্মে আল্লাহ বলেন, তোমরা হজ্ব ও ওমরাহ পালন কর। (২ঃ১৯৬)। মক্কা বিজয়ের সময় কাফিররা হজ্ব যাত্রীদেরকে কাবায় প্রবেশে বাধা দিয়েছিল।(৪৮ঃ২৫)। আর তখনই আল্লাহ ঘোষণা দিলেন, তোমরা যেখানে বাধাগ্রস্থ হও, সেখানেই কুরবানী দাও (২ঃ১৯৬)। কারণ কুরবানীর মাংস ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌছে না, বরং পৌছে তাকওয়া। (২২ঃ৩৭)। এখানে উল্লেখ্য যে, কোন ধরণের পশু কুরবানী দেওয়া যায়েজ এটা আমাদের জানা উচিত। যে সকল পশু হারাম করা হয়েছে এবং যে সকল পশু হালাল অথচ চর্বী হারাম করা হয়েছে, সে সকল পশু কুরবানী না দেওয়াই উত্তম। এই মর্মে আল্লাহ বলেন নখরযুক্ত পশু হারাম এবং গরু ও ছাগলের এক ধরনের চর্বিও হারাম (৬ঃ১৪৬)। তাহলে দেখাগেল গরু ও ছাগলের দেহে হারাম চর্বী থাকায় গরু ও ছাগল কোরবানি না দেওয়াই উত্তম। উপরোক্ত আয়াতগুলোতে প্রমাণিত হয় যে, হজ্বের সাথে কুরবানীর সম্পর্ক। আর কুরবানীর জন্য একমাত্র ঠিকানা হচ্ছে কাবাঘর। এখানে উল্লেখ্য যে, তাই যারা কাবাঘরের সীমারেখার বাইরেও কুরবানীর প্রথাকে চালু রেখেছে তাদের কুরবানী কোরআন ভিত্তিক নহে এটা নিশ্চিত। এখানে উল্লেখ্য যে, আল্লাহ বলেন, হে মানুষ তোমাদের মধ্যে যাহারা হজ্বের পথের জন্য যোগ্য তাহারা যেন কাবাঘরে হজ্ব পালন করে (৩ঃ৯৭)। এই আয়াতে ইসতাতাঅ শব্দ এসেছে, যার অর্থ যোগ্য। আরবি বাংলা অভিধান পৃ. নং-২২৭। আর হজ্বের জন্য যোগ্য ব্যক্তি তারাই যারা মোমেন। কারণ যারা মুশরেক তাদের জন্য কাবা ঘরে হজ্ব পালন করতে নিষেধ করা হয়েছে (৯ঃ২৮)। এখানে উল্লেখ্য যে, মুশরিক বলতে কাকে বুঝানো হয়েছে। যাদের অন্তর শেরেক মুক্ত নহে উহারাই মুশরিক। যাহারা প্রভুর দর্শন লাভ না করে হজ্জে গমন করে তাদের অন্তরে আল্লাহ সম্পর্কে ধারনা, কল্পনা উদয় হয়, আর আল্লাহ সম্পর্কে ধারনা, কল্পনা ও অনুমান মোটেও গ্রহণযোগ্য নহে। (১০ঃ৩৬)। এইজন্য গ্রহণযোগ্য নয় যে, আপনি আল্লাহকে যেমনটি কল্পনা করেন, আল্লাহত তেমনটি নহে বিধায় আল্লাহ সম্পর্কে আপনার মস্তিষ্কের কাল্পনিক মূর্তিটি মেসেলে গন্য হয়। আর আল্লাহ সম্পর্কে কোন মেসেল দেওয়া যাবে না (সূরা নহলÑ৭৪)। ফলে যারা আল্লাহর কাল্পনিক মূর্তি অথবা কাবা ঘরের কাল্পনিক ছবি মস্তিষ্কে রেখে সেজদা করে ফলে উহাদের সেজদা শেরেকে গন্য হয়। কারণ আল্লাহ ছাড়া সেজদা হারাম (সূরা জ্বীন-১৮) এইজন্য ওয়াস জুদুলী হেরেম শরীফ কিংবা ওয়াস জুদুলী মাকামে ইব্রাহিম কিংবা ওয়াস জুদুলী বায়তুল্লাহ অর্থাৎ তোমরা কাবা ঘরকে সেজদা কর কিংবা মাকাকে ইব্রাহিমকে সেজদা কর, কিংবা তোমরা আল্লাহর ঘরকে সেজদা কর এমন আয়াত কুরআনে আসে নি। তবে আয়াতে এসেছে, আত্তাখাজু মিন মাকামে ইব্রাহিম মু ওসাল্লি। (২ঃ১২৫)। অর্থ তোমরা মাকামে ইব্রাহিমকে উসাল্লি আদায় করার স্থান সাব্যস্ত কর। এখানে উল্লেখ্য যে, উসাল্লী এবং সেজদা এক শব্দ নহে, কারণ সেজদা হচ্ছে উপাসনামূলক শব্দ আর উসাল্লি হচ্ছে প্রশংসামূলক শব্দ। কারণ আল্লাহ ও ফেরেস্তারা বান্দার প্রতি উসাল্লী আদায় করে। (সূরা যুখরুফÑ ৪৩)। অতএব সূরা বাকারার ১২৫ নং আয়াত অনুসারে মাকামে ইব্রাহিমকে প্রভুর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করার স্থান হিসাবে সাব্যস্ত করতে বলা হয়েছে। তবে সেটা সেজদার লক্ষ্যবস্ত নহে। এইজন্য যারা হজে গিয়ে কাবা ঘরের ছবিকে সেজদার লক্ষ্যবস্তু হিসাবে অন্তুরে স্থির করে সেজদা করে তারাও শেরেকে গণ্য। তবে হজ্জের বিষয়ে একমাত্র আল্লাহকেই অধিক স্মরণ করতে বলা হয়েছে। (২ঃ১৯৮)। আর সেই স্মরণটা হবে দেখা বিষয়কে যেমন ভাবে স্মরণ করা যায়, তেমন ভাবে স্মরণ। (২ঃ২০০)। এখানে উল্লেখ যে, যেহেতু অদেখা বস্তু স্মরণযোগ্য নয়, আর তাই আল্লাহকে স্মরণ করার পূর্বশর্ত হচ্ছে আল্লাহর দর্শন লাভ বা সাক্ষাৎ লাভ করা। এই মর্মে আল্লাহ বলেন 'তোমরা কঠোর সাধনা কর অবশ্যই প্রভুর সাক্ষাৎ পাবে'। (৮৪ঃ৬)। এই সাক্ষাৎটা দুনিয়াতেই ঘটবে। কারণ মৃত্যুর পরে কাফেরাও প্রভুকে স্পষ্টভাবে দেখতে পাবে। (১৯ঃ৩৮)। কাজেই কঠোর সাধনার মাধ্যমে সাক্ষাতের বিষয়টি ইহকালেই হবে এটা নিশ্চিত। সেহেতু যারা আল্লাহর দর্শন করে নাই তারা হজ্জে গিয়ে আল্লাহর স্মরণ করতে ব্যর্থ বিধায় তারা হজ্জ পালনে কাবাঘরে গিয়ে শেরেক করে বিধায় মুশরেক হাজীতে গণ্য। কাজেই যাদের অন্তরে রসূল রূপে আল্লাহর দর্শন নাই তারা হজ্বের পথের পথিক হওয়ার অযোগ্য বলে বিবেচিত। এখানে উল্লেখ্য যে, কাবা হচ্ছে দুই প্রকার। একটা হচ্ছে আত্মিক কাবা, যেটা হচ্ছে রসূল কাবা। রসূল কাবায় হজ্ব করতে বলা হয়েছে। (২২ঃ২৭)। রসূল ক্বাবায় হজ্ব করার পরে সে বাহ্যিক ক্বারায় হজ্ব করার যোগ্য হবে। অর্থাৎ সম্যক গুরুই রসূল, আর যারা গুরুর কাছে বায়েত গ্রহণ করে রসূল কাবায় আল্লাহকে সেজদা করে ইবলিশ মুক্ত হয় নাই তারা ইবলিশ সংশ্লিষ্ট । (৪৩ঃ৩৬)। আর ইবলিশ সংশ্লিষ্ট থাকায় তারা অপবিত্র। আর অপবিত্র ব্যক্তিদের জন্য হজ্ব নিষেধ। (৯ঃ২৮)। আর যারা আত্মিক কাবায় তথা রসুল কাবায় সেজদা দেয় নাই, তারা কাবাগৃহে হজ্বের জন্য যোগ্য নহে। এই জন্য আল্লাহ বলেন, মানুষের মধ্যে যারা হজ্বের জন্য যোগ্য তারাই হজ্ব পালন করবে (৩ঃ৯৭)। সেক্ষেত্রে একটি প্রশ্ন এসে যায় যে, কাবা ঘরই যদি হজ্ব ও কুরবানীর একমাত্র ঠিকানা হয় তাহলে পৃথিবীর অন্যান্য দেশগুলি থেকে কাবা ঘরে এসে হজ্ব পালন করা বা কুরবানী দেওয়া মানুষের পক্ষে জুলুমে গন্য হয়। কিন্তু আল্লাহতো কাহারো উপর দ্বীনের বিষয়ে জুলুম করে না (২ঃ২৫৬) (২২ঃ৭৮) (১৮ঃ৪৯)। অর্থাৎ যারা মুশরেক তারা ব্যাতিত সকল মমিনই হজ্বের পথের জন্য যোগ্য। কারণ মুশরেকদের জন্য হজ্ব করা নিষেধ (৯ঃ২৮)। অর্থাৎ ধনী গরিব সকল মমিন হজের জন্য যোগ্য এতে কোন সন্দেহ নাই। তারপরও যারা ধনী নহে এমন মমিনদের জন্য হজ্বের বিষয়ে বলা হয়েছে, যারা হজ্বে গিয়ে কুরবানী দিতে পারবে না তারা যেন হজ্বের পরে ১০ দিন সিয়াম পালন করে (২ঃ১৯৬)। এই আয়াতে প্রমাণ হয় যারা গরীব তাদেরকেও হজ্বের আওতায় আনা হয়েছে। সেক্ষেত্রে আরব দেশ ব্যতীত পৃথিবীর অন্যান্য দেশের গরীব মমিনদের জন্য ক্বারাঘরে হজ্ব পালনে আসা যুলুমে গন্য হয়। তাই এই বিষয়ে সমাধান দেওয়ার জন্য কতদূর থেকে মানুষ কাবাঘরে হজ্জ করতে আসবে এমন একটি নির্দেশনা থাকা দরকার। এই মর্মে আল্লাহ বলেন, হজ্জে তোমার কাছে লোকেরা আসবে, প্রশস্ত ও লম্বা গিরিপথ দিয়ে, পায়ে হেঁটে কিংবা ক্ষীনকায় উষ্ট্রের পিঠে চড়ে (২২ঃ২৭)। এই আয়াতে হজ্জ শব্দ এসেছে, যার অর্থ তীর্থ যাত্রা বা পবিত্র স্থানে গমন। (আঃ অভিঃ পৃঃ নং-১১৫০)। এই আয়াতে ضمر ধামিরু শব্দ এসেছে, যার অর্থ কৃষ্ণকায়, কুঞ্জিত, বিশুষ্ক (আঃ অভিঃ পৃঃ নং-১৬২৪)। এই আয়াতে فج ফাজ্জী শব্দ এসেছে, যার অর্থ গিরিপথ (আঃ অভিঃ পৃঃ নং-১৮৬৪)। এই আয়াতে عميك আমিকু শব্দ এসেছে, যার অর্থ প্রশস্ত ও লম্বা। (আঃ অভিঃ পৃঃ নং-১৮০২)। এই আয়াতে رجلরিজালান শব্দ এসেছে, যার অর্থ হচ্ছে পায়ে হেঁটে চলা। (আঃ অভিঃ পৃঃ নং-১৩৪৫)। তাহলে দেখা গেল পদব্রজে ও উষ্ট্রের পিঠে চড়ে মানুষ হজ্জ করতে কাবাঘরে আসবে এমনটি বলা হয়েছে, এতে প্রমাণ হয় যে, যতদূর থেকে মানুষের পক্ষে পায়ে হেঁটে আসা কিংবা উষ্ট্রের পিঠে চড়ে আসা জুলুমে গন্য হয় না, শুধুমাত্র ততদূর পর্যন্ত এলাকার ধনী গরীব সকল মুসলিমদের জন্যই হজ্জ ফরজ। সেক্ষেত্রে আরব দেশের বাইরে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মুসলিমদের জন্য কুরবানী করা ও হজ্জ পালন করার উদ্দেশ্যে কিংবা সালাত আদায়ের উ্েদ্দশ্যে কাবাঘরে যাওয়া জরুরী নহে। এখানে উল্লেখ্য যে, অনেকেই ওমরা শব্দকে হজ্জ বলে গন্য করে, কিন্ত না, হজ্জ আর ওমরা এক নহে। কারণ একই আয়াতে হজ্জ এবং ওমরা শব্দ এসেছে। এই মর্মে আল্লাহ বলেন, তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ্জ এবং ওমরা পালন কর (২ঃ১৯৬)। তাহলে হজ্জ এবং ওমরা দুইটি আলাদা বিষয়। সেক্ষেত্রে ওমরা শব্দের অর্থ হচ্ছে, প্রতিপালকের উপাসনা করা, সেবা করা, রোজা রাখা ইত্যাদি (আঃ অভিঃ পৃঃ নং-১৮০১)। তবে আল্লাহ বলেন, মুশরিকরা যেন হজ্জ করতে না যায়। (৯ঃ২৮)। কেননা মুশরিক হাজীদের দায় আল্লাহ নিবেন না (৯ঃ৩)। এইজন্য আল্লাহ পাক মুশরিকেদেরকে কাবাঘরে যেতে নিষেধ করেছেন। (৯ঃ২৮)। অতএব, দ্বীনের ক্ষেত্রে সকল কিছুর বিধান পবিত্র কুরআন মোতাবেক করতে হবে। যারা এজমা-কিয়াস বা মানব রচিত গ্রন্থ কিংবা হাদীস মোতাবেক দ্বীনের বিষয়ে বিধান দেয় তাদের উদ্দেশ্যে আল্লাহ বলেন আমি যাহা নাজিল করেছি, তদঅনুসারে যারা দ্বীনের বিষয়ে বিধান দেয়না উহারা যালিম, ফাসিক, কাফের (৫ঃ৪৪, ৫ঃ৪৫, ৫ঃ৪৭)। তাই কাবা, কুরবানী, হজ্ব সম্পর্কে আমাদের কুরআন মোতাবেক ফয়সালা করা দরকার আর কুরআনের বুঝ যাদের অপন্দ তাদের কর্মফল বিনষ্ট হবে (৪৭ঃ৯)।
সৃষ্টির প্রথম কাফের ইবলিস। আর ইবলিস আদম ক্বাবায় আল্লাহ কে সিজ্দা না দিয়ে কাফের (২ঃ৩৪)। আর কাফিররা আল্লাহর স্বরণে গাফেল থোকে। আর যারা আল্লাহর স্বরণে গাফেল থাকে তাদের সাথে শয়তান সংশ্লিষ্ঠ থাকে (যুখরুফ ৩৬)। আর তাই ইবলিশ সংশ্লিষ্ঠ এক জন কাফির যখন মোমিন চায় তখন তার জন্য শর্ত হচ্ছে আদম ক্বাবায় আল্লাকে সেজদা দেওয়া। কারন যতক্ষন পযর্ন্ত কোন ব্যক্তি আদম ক্বাবায় সেজদা না দেয় ততক্ষন পযর্ন্ত সে ইবলিশ সংশ্লিষ্ঠ থাকবে। আর ইবলিশ মুক্ত না হওয়া পযর্ন্ত কেহ মোমিনদের দল ভুক্ত হতে পারবে না। আর সেদিন ইবলিশ মুক্ত না হয়ে অথাৎ পবিত্র অন্তঃকরণ ব্যাতিরকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবেনা। (শুয়ারা-৮৯)। কারণ ফেরেস্তারা আদম ক্বাবায় আল্লাহকে সেজদা দিয়েই মোমিনদের দল ভুক্ত হয় (২ঃ৩৪)। আদম ক্বাবায় সেজদা না দিয়ে যদি কেহ আল্লাহর ও রসূল বিশ্বাস করে এবং আল্লাহ ও রসূলের আনুগত্য স্বীকার করে তার পরেও সে মোমিন হতে পারবে না। কারন ইবলিশ আল্লাহ ও রসূল বিশ্বাস করে এবং আল্লাহ ও রসূলের আনুগত্য স্বীকার করে (নূর-৪৭)। তার পরও সে কাফের। আদম ক্বাবায় সেজদা না দিয়ে যদি কেহ আল্লাহ ও আখেরাত বিশ্বাস করে তার পরেও সে মোমিন হতে পারবে না। কারন ইবলিশ আল্লাহ ও আখেরাত বিশ্বাস করার পরও সে মোমিন নহে (২ঃ৮)। আদম ক্বাবায় সেজদা না দিয়ে যদি কেহ দোযখ ও বেহেস্ত বিশ্বাস করে তার পরেও সে মোমিন হতে পারবে না। কারন ইবলিশ তো বেহেস্তে থেকে বহিস্কৃত (১৫ঃ৩৪)। আদম ক্বাবায় সেজদা না দিয়ে যদি কেহ পুনরুত্থান দিবস বিশ্বাস করেন তার পরেও সে মোমিন হতে পারবে না। কারন ইবলিশ পুনরুৎথান দিবস বিশ্বাস করে (সাদ-৭৯)। আদম ক্বাবায় সেজদা না দিয়ে যদি কেহ ইবাদাত বন্দেগী করে তার পরেও সে মোমিন হতে পারবে না। আদম ক্বাবায় সেজদা না দিয়ে যদি কেহ লোকদেখানো ছালাত আদায় করে তার পরও সো মোমিন হতে পারবে না। কারন ইবলিশের অনুসারীরা লোক দেখানো ছালাত আদায় করে (মাউন-৬)। আদম ক্বাবায় সেজদা না দিয়ে যদি কেহ ফেরেস্তা বিশ্বাস করে তার পরেও সে মোমিন হতে পারবে না। কারন ইবলিশ ফেরেস্তা বিশ্বাস করে। কারণ সে তো ফেরেস্তাদের সাথেই ছিল (২ঃ৩৪)। আদম ক্বাবায় সেজদা না দিয়ে যদি কেহ আল্লাহকে প্রভু বলে স্বীকার করে তার পরেও মোমিন হতে পারবে না। কারন ইবলিশ লান্তত প্রাপ্তির পরও আল্লাহকে প্রভু বলে স্বীকার করে (১৫ঃ৩৬) (৩৮ঃ৭৯)। আদম ক্বাবায় সেজদা না দিয়ে যদি কেহ আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনা করে তার পরেও সে মোমিন হতে পারবে না। কারন ইবলিশও আল্লাহ পাকের পবিত্র ও মহিমা বর্ণনা করে (৫৭ঃ১)। আদম ক্বাবায় সেজদা না দিয়ে যদি কেহ আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পন করে তারপরও সে মমিন হতে পারবে না। কারণ ইবলিশও আল্লাহ পাকের কাছেই আত্মসর্মন করে (৩ঃ৮৩)। আদম ক্বাবায় আল্লাহকে সেজদা না দিয়ে যদি কেহ ধারনা ও কল্পনার মাধ্যমে আল্লাহকে সেজদা করে তার পরও সে মমিন হতে পারবে না। কারণ ধারনা ও কল্পনা আল্লাহ সম্পর্কে মোটেও ফলপ্রসু নহে। (১০ঃ৩৬)। কারণ ইবলিশ ধারনা ও কল্পনার মাধ্যমে আল্লাহকে সেজদা করে। (রাদ-১৫)। ইবলিশ একমাত্র আদম কাবায় সেজদা না দিয়েই কাফের। (২ঃ৩৪)। আর তাই ইবলিশ কখনো আদম কাবায় সেজদার শামিল হবেনা (১৫ঃ৩৩)। ফলে যখন কোন ব্যক্তি সম্যক গুরুর কাবায় তথা রসূল কাবায় আল্লাহকে সেজদা করে তখনই সে ইবলিশ মুক্ত হয়ে মমিনদের দলভুক্ত হবে। ইবলিশ যেহেতু আদম কাবায় সেজদার শামিল হবেনা (১৫ঃ৩৩) সেহেতু আদম কাবায় সেজদাকারীর সাথে ইবলিশ থাকবেনা। ফলে আদম সেজদাকারীর দেহ মন থেকে ইবলিশ বাহির হয়ে যায়। আর ঐ ব্যক্তি (আদম কাবায় সেজদাকারী) ইবলিশ থেকে মুক্ত হয়ে মমিনদের অর্ন্তভুক্ত হয়। তাহলে দেখা গেল মমিন হওয়ার শর্ত হচ্ছে, আদম কাবায় আল্লাহকে সেজদা দেওয়া। আর তাই যতদিন পৃথিবীতে ইবলিশ বা ইবলিশের অনুসারী কাফেরা থাকবে, ততদিন ইবলিশ থেকে মুক্ত হওয়ার লক্ষে রেসালাতের ধারাবাহিকতার মাধ্যমে আল্লাহর খলিফাকে আদম কাবায় সেজদাকরার ঠিকানা হিসাবে একজন সম্যক গুরু তথা একজন রসূল উপস্থিত থাকবে, যার মাধ্যমে মানুষ ইবলিশকে বর্জন করে আল্লাহর ইবাদত করতে পারবে। এই মর্মে আল্লাহ বলেন, তোমরা ইবলিশকে বর্জন করে যেন আল্লাহর ইবাদত করতে পার এই জন্য আমি রসুল ব্যবস্থা রেখেছি (নাহল-৩৬)। এই মর্মে আল্লাহ আরো বলেন, আমি মমিনদের মধ্য থেকে রসুল ব্যবস্থা রেখেছি যিনি তোমাদেরকে ইবলিশ থেকে পবিত্র করবে (ইমরান-১৬৪)। আর সেই সম্যক গুরুর কাছে বাইয়াত গ্রহণের মাধ্যমে আদম কাবায় সেজদা করে আনুগত্যের মাধ্যমে একজন কাফের ব্যক্তি মমিন হতে পারবে। অতএব যারা এখনও সম্যক গুরুর কাছে বাইয়াত গ্রহণের মাধ্যমে আদম কাবায় সেজদা করে নাই উহারা ইবলিশ থেকে মুক্ত নহে বিধায় তারা মমিনদের দলভুক্ত নহে।
নারীদের মুখমন্ডলে গোফ এবং দাড়ী নাই। অথচ পুরুষদের মুখমন্ডলে গোফ এবং দাড়ী আছে। এটা আল্লাহর বিধান বা নিয়ম। আর মানুষের শরিরের চুল ও দাড়ী এবং গোফ যত টুকু বড় হওয়া বা লম্বা হওয়ার প্রয়োজন ততটুকুই বড় বা লম্বা হবে তার বেশি হবে না। যেমন চোখের ভ্ররু যতটুকু বড় হওয়ার প্রয়োজন তার বেশি বড় হয় না। যেমন ভাবে আদম (আঃ) এর সময় চুল দাড়ী গোফ কর্তন করার জন্য কোন কাঁচি বা খুর ছিল না। কারন খুর তৈরির জন্য লোহা ও আগুন কোনটা তখন আবিস্কার হয়নি। ফলে তখন আদম (আঃ) এর মুখমন্ডলে দাড়ী গোফ এবং মাথায় চুল বড় হয়েছিল যততুকু বড় হওয়া প্রয়োজন ততটুক। সেই থেকে চুল দাড়ী গোফ রাখার নিয়ম চলে আসছে। কারন এগুলি সবই আল্লাহর দেওয়া বিধান/নিয়ম। এখন যদি কেহ চুল, দাড়ী ও গোফ কর্তন করে তাহলে আল্লার নিয়মের পরিবর্তন করল, কিন্তু আল্লাহর নিয়মের কোন পরির্বতন নেই (১৭ঃ৭৭)। আর পুরুষের মুখমন্ডলে গোফ এবং দাড়ী দেওয়ার আল্লাহর একটি উদ্দেশ্য আছে। কারন আল্লাহ কোন কিছু নিরর্থক সৃষ্টি করে নাই (৩৮ঃ২৭) (২১ঃ১৬)। তাই চুল, দাড়ী ও গোফ কর্তন করে তারা আল্লাহর উদ্দ্যেশকে ব্যর্থ করে। কিন্তু যারা আল্লাহর নির্দশনকে ব্যর্থ করে তাদের জন্য কঠিন শাস্তি জাহান্নাম (হজ্ব-৫১)। কাজেই চুল দাড়ী ও গোফ কর্তন করা বিধি সম্মত নহে। তা ছাড়া চুল দাড়ী ও গোফ রাখা হারাম বা নিষেধ এমন আয়াত পবিত্র কোরআনে নেই। তারপর অনেকেই বলে গোফ এবং চুল রাখা হারাম, তাদের দৃষ্টি আর্কষণ করি। আদম (আঃ) যখন বেহেস্তে ছিলেন তখন তিনি শারিরিক ভাবে পূর্নাঙ্গ পুরুষ মানুষ ছিলেন, তখন তার সাথে তার স্ত্রীও ছিল (০২ঃ৩৫) তখন তার মুখে নিশ্চয় গোফ ছিল আর গোফ যদি হারাম হতো তবে হারাম বস্তু বেহেশ্তে কিভাবে ছিল। যেহেতু বেহেশ্তে কোন হারাম বা অপবিত্র বস্তুর উপস্থিত থাকতে পারেনা। কারন অপবিত্রতার কারনে ইবলিস সেখান থেকে বহিষকৃত হয়েছিল (১৫ঃ৩৪)। সেই হিসাবে আদম (আঃ) কে যখন আল্লাহ ওই মুহুর্তে তুমি ও তোমার স্ত্রী একসাথে জান্নাতে বসবাস কর (০২ঃ৩৫) আবার হাশরের দিনেও চুলের ঝুটি ধরিয়া অপরাধীদেরকে পাকড়াও করা হবে (৫৫ঃ৪১) (৯৬ঃ১৫) এই আয়াতে নাওয়াছি শব্দ এসেছে, যার অর্থ চুলের উপরের অংশ (আরবি অভিধান পৃঃ নং- ২৪৮৩)। এই আয়াতে প্রমাণ হয় হাশরের দিন মানুষের মাথায় চুল বড় থাকবে কাজেই বর্তমানেও চুল দাড়ী ও গোফ যতটুকু বড় হওয়া প্রয়োজন ততটুকু বড় হবে এতে কোন বাধা নেই সেহেতু চুল দাড়ী ও গোফ রাখা হালাল। এতে প্রমান হয় আদম (আঃ) এর মুখমন্ডলের গোফ এবং মাথার চুল নিশ্চয় হারাম ছিলনা। যেহেতু পবিত্র কোরআনে কোথাও গোফ এবং চুল রাখা হারাম বা নিষেধ এই মর্মে কোন আয়াত পবিত্র কোরআনে আসে নাই। এতে প্রমাণিত হয় যে, চুল, দাড়ী গোফ রাখা আল্লাহ হারাম করে নাই এটা নিশ্চিত। মূলতঃ ঐগুলিই হারাম যাহা আল্লাহ পবিত্র কোরআনে হারাম বলে ঘোষণা করেছেন। মূলত পবিত্র কোরআনের সকল আয়াতে নবী (সঃ) এর মুখ নিঃসৃত বাণী (৬৯ঃ৪০)। তাঁর প্রতি যাহা অহি অবর্তীণ হয় শুধু তিনি তাহাই বলেন (৫৩ঃ৪)। তিনি নিজের তরফ থেকে কোন কিছুই বলেন নাই (৫৩ঃ৩)। তিনি আল্লাহর নামে কোন কিছুই বানাইয়া বলে নাই (৬৯ঃ৪৪)। আর আল্লাহ বলেন নাই এমন কথা যদি তিনি আল্লাহর নামে বানাইয়া বলিতেন তাহলে আল্লাহ তার দক্ষিণ হস্ত ধরিয়া ফেলিতেন (৬৯ঃ৪৫) এবং তার জীবন ধমনী কাটিয়া দিতেন (৬৯ঃ৪৬)। আর এই কোরআন নিশ্চয়ই আল্লাহ ব্যতিত অপর কাহারো রচনা নহে (১০ঃ৩৭)। ইহা প্রভুর পক্ষথেকে নাজিলকৃত গ্রন্থ (৬৯ঃ৪৩)। কাজেই এই কোরআনে যাহা হারাম বলে উল্লেখ নেই তাহা নবী (সঃ) হারাম করেন নাই এটাও নিশ্চিত। কারণ তিনি ওহি ব্যতিত কাউকে সতর্ক করে নাই (২১ঃ৪৫)। আর নবী (সা.)-এর জন্য বিধান স্বরূপ এই কোরানই (২৮ঃ৮৫)। যেহেতু চুল, দাড়ী গোফ রাখা হারাম কোন ওহি আসে নাই বিধায় তিনি এইগুলি হারাম মর্মে কাউকে সতর্ক করে নাই। তাছাড়াও নবী (স) ওহি ব্যতিত কোনকিছু অনুসরণ করে নাই (৬ঃ৫০)। আর হারাম সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, আমি যাহা হারাম করেছি ইতিপূর্বে কোরআনে শুধু তাহাই হারাম (১৬ঃ১১৮)। আল্লাহ আরো বলেন, আর যাহা কিছু হারাম করেছি যাহা ব্যতিত বাকী সমস্ত কিছুই হালাল (৩ঃ৯৩)। যেহেতু চুল, দাড়ী গোফ রাখা হারাম এই কোরআনে উল্লেখ নেই তাহলে এটা অবশ্যই হালাল। আর কোন হালাল বস্তুকে তোমরা হারাম বলিওনা (৫ঃ৮৭)। এখানে উল্লেখ্য যে, অনেকেই বলে- এই কোরআনের বাইরেও আল্লাহর কিছু ওহি আছে, যাহা কোরআন লিপিবদ্ধ করার সময় বাদ পড়েছে। তাদের কথা ঠিক নহে। কারণ এই কোরআন আল্লাহ নিজেই হেফাজত করেন (১৫ঃ৯) এবং সর্বাবস্থায় অভিসপ্ত শয়তান হইতে এই কোরআনকে হেফাজত করেন (১৫ঃ১৭)। অর্থাৎ নবী (স) এর উপর নাজিলকৃত সকল ওহি এই কোরআনের ভিতর লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। আর এই জন্য ওহি ব্যতিত কোন কথা এই কোরআনে নেই এটাও নিশ্চিত। কারণ নবী (স) রূপের মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর কথাগুলোকে ব্যক্ত করেছেন। ফলে ইবলিশের অনুপ্রবেশ এই কোরআনের ভিতরে ঘটে নাই। এইজন্য পবিত্র কোরআনের কথাগুলো নবী (স) সুরতের মাধ্যমে আল্লাহর কথা। যদি নবী (স) রূপের বাইরে এসে আল্লাহ মানুষের সাথে কথা বলতো সেক্ষেত্রে প্রতারিত শয়তান মানুষকে আল্লাহ সম্পর্কে প্রবঞ্চনা দিতে পারত। কারণ ইবলিশ মানুষকে আল্লাহ সম্পর্কে প্রবঞ্চনা দিতে সক্ষম (৩১ঃ৩৩) (৩৫ঃ৫)। যখন ওহি নাজিল হয়েছে তখন নবী (সঃ) এর নিজ আকৃতিতেই আল্লাহ স্থির হয়েছে (৫৩ঃ৬)। কারণ নবী (সঃ) এর রূপ ইবলিশ ধারণ করতে পারে না, কারণ নবী (সঃ) স্বরূপে সেজদাকারী (৭ঃ২৯)। আর যেহেতু ইবলিশ আদম কাবায় সেজদা না দিয়েই কাফের (২ঃ৩৪) সেহেতু ইবলিশ আদম কাবায় সেজদার শামিল হবে না (১৫ঃ৩৩) এইজন্য নবী (স) এর সুরত ইবলিশ ধারণ করে না। এই জন্য পবিত্র কোরআনের মধ্যে ইবলিশের কথার অনুপ্রবেশ ঘটানো রোধ করার জন্য নবীর রূপের মাধ্যমে আল্লাহ কোরআন নাযিল করেছেন। আর এইভাবেই তিনি কোরআনকে ইবলিশ থেকে হেফাজত করেছেন (১৫ঃ১৭)। যেহেতু চুল, দাড়ি গোফ ও বাদ্যযন্ত্র হারামের কথা কোরআনে উল্লেখ নাই, বিধায় এইগুলি হারাম নহে। কারণ দ্বীনের সকল বিষয় ফয়সালাকারী এই কোরআন (৮৫ঃ১৩)। আর এই কোরআন মোতাবেক যারা দ্বীনের বিষয়ে বিধান দেয় না উহারাই যালেম, ফাসেক ও কাফের (৫ঃ৪৪) (৫ঃ৪৫) (৫ঃ৪৭)। যেহেতু উপরোক্ত আলোচনায় প্রমাণ হয় আল্লাহ যাহা হারাম করেছেন তাহা ব্যতিত সকল বস্তু হালাল (৩ঃ৯৩)। যেহেতু চুল, দাড়ি গোফ রাখা হারাম কোরআনে উল্লেখ নেই তাহলে এইগুলি রাখা হালাল। আর এইগুলি মানব শরীরে আল্লাহর দেওয়া নিদর্শন। অতএব যারা বর্তমানে চুল, দাড়ি গোফ কর্তন করেন তাহারা আল্লাহর নির্দশনের পরিবর্তন ঘটায়। আল্লাহর নির্দশনের বা নিয়মের কোন পরিবর্তন করা যাবে না (১৭ঃ৭৭)। আর চুল, দাড়ি গোফ যেহেতু আল্লাহর নিদর্শন তাহলে আল্লাহর নির্দশনকে যারা কর্তন করে তাহারা আল্লাহর নিদর্শনকে ব্যর্থ করার চেষ্টা করে। ফলে তাদের জন্য কঠিন শাস্তি জাহান্নাম (২২ঃ৫১)। তাই আল্লাহর নির্দেশকে বাস্তবায়ন করার উদ্দেশ্যে রসূলকে রেসালাতের ভার দেওয়া হইয়াছে (৬ঃ১২৪)। আর আল্লাহ বলেন, আমার নির্দেশ মোতাবেক তোমরা রসূলের আনুগত্য কর, এইজন্য আমি তোমাদের মধ্যথেকে তোমাদের কাছে রসূল পাঠাইয়াছি (৪ঃ৬৪)। তাই মানুষ কোরআনের সমস্ত নির্দেশ পালন করবে বলে রসূলের কাছে তথা গুরুর কাছে আনুগত্যের বায়াত গ্রহণ করে, অথচ কিছু লোক গুরুর কাছে বায়াত গ্রহণ করার পর গুরুর তথা রসূলের নিষেধ থাকার পরও তারা চুল, দাড়ি গোফ কর্তন করে কোরআনের পরিপন্থি তথা মুসলমানদের পরিপন্থি কাজ করে। তাদের উদ্দেশ্যে আল্লাহ বলেন, যারা এই রকম ভাবে আল্লাহ ও রসূলের নিষেধকে নিষেধ মনে করে না তাদের সাথে যুদ্ধ কর যতক্ষণ পর্যন্ত তারা নত না হয় (৯ঃ২৯)। অর্থাৎ চুল, দাড়ি গোফ কর্তন করা যাবে না, তারপরও রসূল তথা গুরুর নিষেধ অমান্য করে চুল, দাড়ি গোফ কর্তন করে তারা রসূল তথা গুরুর অবাধ্য বলে বিবেচিত হবে। অর্থাৎ যে সমস্ত ভক্তগণকে রসূল তথা গুরু চুল, দাড়ি গোফ কর্তন না করা নির্দেশ দেন তারপরও সেই নির্দেশ অমান্য করে চুল, দাড়ি গোফ কর্তন করে তাদের বিষয়ে আল্লাহ বলেন, আল্লাহ ও রসূল (কুরআন মোতাবেক) কোন নির্দেশ দিলে কোন মমিন সে বিষয়ে ভিন্ন সিদ্ধান্তের অধিকার থাকবে না (৩৩ঃ৩৬)। যদি সে আল্লাহ রসূলকে অমান্য করে তাহলে সে পথভ্রষ্ট (৩৩ঃ৩৬)। তারা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে দাখিল হয়নি। তাদের জন্য আল্লাহ বলেন, হে মোমিন তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে দাখিল হও (২ঃ২০৮)। কাজেই চুল, দাড়ি গোফ কর্তন করা থেকে বিরত থেকে আল্লাহ রসূলের আনুগত্য করে তারা গুরুর কাছে পরিপূর্ণভাবে বায়াত গ্রহণ করে। আর যারা গুরুর তথা রসুলের পরিপূর্ণভাবে আনুগত্য করে তারা সেদিন নবীর সঙ্গী হবে (৪ঃ৬৯)। এখানে উল্লেখ্য যে, এমন অনেক লোক আছে, যারা নিজ হাতে কিতাব রচনা করে আল্লাহর নামে চালিয়ে দেয় এবং স্বল্প মূল্যে তা বাজারে বিক্রয় করে (২ঃ৭৯) ঠিক তদ্রƒপ এমন কিছু লোকও আছে, যাহারা নবী (স) বলেন নাই এমন কথা নবীর হাদীস বলে চালিয়ে দেয় যেগুলি নবী (স) বলেন নাই। সেই সমস্ত বিষয়গুলি মানব রচিত গ্রন্থের উল্লেখ করে বলেÑ ইহা হারাম, ইহা হালাল ইত্যাদি। তাদেরকে সতর্ক করে আল্লাহ বলেন, 'তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করিবার জন্য বলিওনা ইহা হালাল এবং ইহা হারাম' (১৬ঃ১১৬)। কারণ আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপকারী সবচেয়ে বড় যালিম (১১ঃ১৮)। আর যারা এমনটি করে তারাই অজ্ঞ বা মূর্খ। আল্লাহ বলেন 'তোমরা অজ্ঞ ব্যক্তিদেরকে পরিহার কর' (৭ঃ১৯৯)। কারণ কোরআনই দ্বীনের বিষয়ে পরিপূর্ণ দলিল (৫ঃ৩)। কাজেই দ্বীনের বিষয়ে এজমা,কেয়াস বা মানব রচিত গ্রন্থ কিংবা হাদীসের কোন প্রয়োজন নাই। অর্থাৎ প্রকৃতপক্ষে তাহাই আল্লাহ হারাম করেছেন যাহা কোরআনে উল্লেখ আছে, আর যেগুলি হারামের কথা কোরআনে উল্লেখ নেই সেগুলি নবী (স) হারাম করেন নাই, কারণ উপরের আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, হারামের বিষয়টি কোরআনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আর এই কোরআনের যাহা হারাম করে নাই এমন বিষয়টি যাহারা হারাম করিবে উহারাই সীমালংঘনকারী। আল্লাহ বলেন, 'তোমরা সীমালংঘন করিওনা' (৫ঃ৮৭)। আর নবী (স) সীমালংঘনকারী ছিলেন না বিধায় কোরআনে যাহা হারাম করে নাই তাহা তিনি হারাম করে নাই এটা নিশ্চিত। কারণ আল্লাহ সীমালংঘনকারীকে পছন্দ করে না (৫ঃ৮৭)। অতবএ, চুল, দাড়ি গোফ ও বাদ্যযন্ত্র হারাম নহে।

পবিত্র কোরআন থেকে বিষয়ভিত্তিক
আলোচনা (২য় খন্ড)

পবিত্র কোরআন থেকে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা (২য় খণ্ড)
মোঃ হাসিবুল হক চিশ্তি
এম.এ. (আরবী), এল.এল.বি
www.mdhashibulhaque.com
করবী প্রকাশন
২৬ বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০
তৃতীয় সংস্করণ জুন ২০১৮
দ্বিতীয় সংস্করণ জুন ২০১৬
প্রথম প্রকাশ মার্চ ২০১৫
প্রচ্ছদ নাসিম আহমেদ
একমাত্র পরিবেশক র্যামন পাবলিশার্স
২৬ বাংলা বাজার, ঢাকা,
ফোন : ৯৫১৫২২৮
অক্ষর বিন্যাস :
মেঘদূত, কনকর্ড এ্যাম্পোরিয়াম শপিং কমপ্লেক্স
২৫৩-২৫৪ এলিফ্যান্ট রোড, কাঁটাবন, ঢাকা-১২০৫
মুদ্রণ : মৌমিতা প্রিন্টার্স
২৫ প্যারীদাস রোড, ঢাকা-১১০০
মূল্য : ১৭৫ টাকা মাত্র
ISBN 984-70740-0045-9
উৎসর্গ
আমার গুরু হযরত খাজা নিজামউদ্দিন আহ্মেদ চিশতী
মাহিদিয়া যশোহর-এর করকমলে